শনিবার (২৪ জুলাই) সকাল ১১টা ১৬ মিনিটে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের পল্লীমা সংসদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ৷ জানাজা শেষে ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদান করা হয়। এরপর বেলা ১২টার দিকে তার মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়া হয়।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!এর আগে গতকাল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন একাত্তরের কণ্ঠ-যোদ্ধা, গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এমপিরা গুণী এ শিল্পীর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানিয়েছেন।
ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে গত চারদিন ধরে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন ফকির আলমগীর। শুক্রবার রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে এ গুণী শিল্পীর মৃত্যু হয় বলে তার ছেলে মাশুক আলমগীর রাজিব গণমাধ্যমকে জানান। মৃত্যুকালে ফকির আলমগীরের বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
ফকির আলমগীরের ডান ফুসফুসের ক্রমশ উন্নতি হলেও বাঁ ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে শুক্রবার (২৩ জুলাই)। পাশাপাশি রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় শঙ্কিত ছিলেন চিকিৎসকরা। তার মধ্যেই রাত সাড়ে ৯টার দিকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে সব আশা শেষ হয়ে যায়। করোনাভাইরাসের দুই ডোজ টিকা নেয়ার পরেও গত ১৪ জুলাই এই সংগীত শিল্পীর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকলে পরদিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। ইউনাইটেড হাসপাতালের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার সাজ্জাদুর রহমান শুভ বলেন, করোনাভাইরাস তো ছিলোই। তার মধ্যে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তার মৃত্যু হয়েছে।
ষাটের দশক থেকে গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত ফকির আলমগীর ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেব ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে শামিল হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রাখেন এ গুণী শিল্পী।
সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখি করতেন।
![]()