২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:২০
শিরোনাম:

দুপুরের আগেই করোনায় ১১৭ জনের মৃত্যুর খবর

দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েই চলেছে। শনিবার (২৪ জুলাই) সকালে সরকার ঘোষিত ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধের (লকডাউন) দ্বিতীয় দিনের প্রথম প্রহরে দেশের বিভিন্ন জেলায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ১১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত:

বরিশাল
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ২৪ ঘণ্টায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে একজন করোনা পজেটিভ, বাকিরা করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে ছিলেন।

এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৬ জনের, এরমধ্যে ৫১ জনই বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা। ২৪ ঘণ্টায় করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ৪৫ জন, এরমধ্যে ১৫ জনই পজেটিভ। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৩০০ জন, এরমধ্যে পজেটিভ ১১২ জন। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের আরটি পিসিআর ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় ১৬৯টি নমুনা পরীক্ষা হয়, এরমধ্যে পজেটিভ ৮৮টি। আরটি পিসিআর ল্যাবে শনাক্তের হার ৫২%।

২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে এ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ৫৯২৩ জন, এরমধ্যে পজেটিভ ছিল ১৭৬৭ জন। এই সময়ের মধ্যে মোট মৃত্যু হয়েছে ৯৮৬ জনের, এরমধ্যে পজেটিভ ছিল ২৬৬ জন। জেলায় এই সময়ের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ২৯ জন এবং একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১৪৯ জনের।

এদিকে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেন সংকট এবং চিকিৎসকদের সময়মতো না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

রাজশাহী
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেল ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও উপসর্গে নিয়ে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে রাজশাহী জেলার ৬ জন, পাবনার ২ জন, নওগাঁ, নাটোর ও কুষ্টিয়ার ১ জন করে ৩ জন মারা গেছেন।
শনিবার (২৪ জুলাই) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃতদের মধ্যে ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এছাড়া বাকি ৪ জন মারা গেছেন করোনার উৎসর্গে নিয়ে। আর গেল ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৫৭ জন। আর হাসপাতালে করোনার জন্য নির্ধারিত ৫১৩ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি আছে ৪১৯ জন। হাসপাতালের দুটি পিসিআর ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় ১৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এদের মধ্যে ৯১ জনের করোনা পজেটিভ পাওয়া যায় যা ৬৫ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া আইসিইউতে ২০টির সবকটিতেই রোগী ভর্তি আছে।
কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে করোনায় ১৩ এবং উপসর্গ নিয়ে ১ জন মারা গেছেন। শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে (২৪ জুলাই) শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তাদের মৃত্যু হয়।
শনিবার (২৪ জুলাই) সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়াও জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২০৭ নমুনা পরীক্ষায় আরও ৬৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল মোমেন জানান, কুষ্টিয়া করোনা ডেডিকেডেট জেনারেল হাসপাতালে ২০০ বেডের অনুকুলে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে ২২৮ জন। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত রোগী ১৬৮ জন। বাকিরা করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন। এখন প্রায় ৭০ শতাংশ রোগীদের অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে। গত ৭ দিনেই কুষ্টিয়ায় করোনা আক্রান্ত ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ হাজার ১৭৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত শুধুমাত্র করোনা আক্রান্ত ৪৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে শহরে ও গ্রামে অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। সচেতন মানুষরা বলছেন, এতে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে।
নেত্রকোনা
নেত্রকোনায় নতুন করে ২৪ ঘণ্টায় ২৭ জন শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ২ জন। ময়মনসিংহ ল্যাবে ১০১ টি নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ৮ জন শনাক্ত হয়েছে। জেলায় COVID-19 Rapid Antigen Test টেষ্ট করা হয়েছে ৪০ জনের। তার মধ্যে শনাক্তকৃত ১৯ জন। এরমধ্যে ১২ জন পুরুষ ও ১৫ জন নারী। জেলায় শনাক্তকৃত সর্বমোট ২৮৪৭ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৬৪৬ জন। এছাড়া মোট মৃতের সংখ্যা ৬৫ জন।

পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আরও ৩০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ সময় ১৫৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে ৩০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।

পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. ফজলুর রহমান জানান, করোনায় পঞ্চগড় সদর উপজেলায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। পঞ্চগড় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্যকর্মীরা পৃথক পৃথকভাবে ১৫৭ জনের শরীরের নমুনার রিপোর্ট পরীক্ষা করে ৩০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।

এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ১৬৯ জন। আর এ পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছে ১১৯১ জন। এদিকে প্রতিদিন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নমুনা টেষ্ট দেওয়ার মানুষের ভিড় দেখা যায়।
দিনাজপুর
দিনাজপুর করোনা ও করোনা উপসর্গ নিয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কুমিল্লা
করোনা ও করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
খুলনা
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে খুলনায় মারা গেছেন ৮ জন।
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ২ জন করোনা শনাক্ত হয়ে এবং ১২ জন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
শনিবার (২৪ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফোকাল পার্সন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন।
মৃত্যুবরণকারীদের ময়মনসিংহের ৫ জন, নেত্রকোনার ৩ জন, টাঙ্গাইলের ৩ জন, জামালপুরের ২ জন ও গাজীপুরের একজন।
শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন- ময়মনসিংহের নাজনিন বেগম (৫৮) ও টাঙ্গাইলের জেসমিন আক্তার (৪৫)।
উপসর্গ নিয়ে মারা যান- নেত্রকোনার পূর্বধলার আফাজ উদ্দিন (৮৫), খালিয়াজুড়ির নূর জাহান (৭৫), সদরের আজিজুন্নেসা (৯২), ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের আবদুর রউফ (৫৫), রাবেয়া আক্তার (৭৪), সদরের ইলমা (২৪), নাসরিন আক্তার (৩৮), জামালপুর সদরের রত্না বেগম (৩২), বকশিগঞ্জের আবদুল মান্নাফ (৬০), টাঙ্গাইলের ম্রিনাল (৬০), রাজিয়া বেগম (৭০), গাজীপুর সদরের আবদুর রাজ্জাক (৭৫)।
ডা. মহিউদ্দিন খান মুন জানান, করোনা ইউনিটে বর্তমানে ৪২৬ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে আইসিইউতে রয়েছেন ২২ জন রোগী। নতুন ভর্তি হয়েছেন ৬৬ জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ জন।
এদিকে ময়মনসিংহ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৪ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯০ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সকলেই করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ৮২ জন। আর করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন মোট ৫০২ জন।
গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৬৩ জনের নমুনা পরীক্ষা শেষে ৯ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। যা শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ নিয়ে জেলায় আজ পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ১৬৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৯৬৭ জন।
ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফরিদপুর
ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনায় ও উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর পিসিআর ল্যাবে ২৪৫ নমুনা পরীক্ষার মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ১২০ জন। এই সময়ে করোনায় ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৮ ব্যক্তি।
শনিবার (২৪ জুলাই) সকালে ফরিদপুর জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
এদিকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়ে ৫ জন এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জন মারা গেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছে ৩২২ জন। সনাক্তের হার ৪৮.৯৮।
রংপুর
রংপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বগুড়া
বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে করোনায় ৬ জন এবং উপসর্গে ১৮ জন মারা গেছেন। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় জেলার দুইটি হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীন ছিলেন। করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- দুপচাঁচিয়ার শিশির চন্দ্র(৭০), সদরের সরদার রহমতুল্লাহ (৮৩), শেরপুরের জাহানারা (৭৩), গাবতলীর সামেদ আলী (৯৫), শেরপুরের চাঁন মিয়া (৪৫) এবং সদরের সেলিনা (৬৯)।
এ ছাড়া সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় দুইটি পিসিআর ল্যাবে ৩৪৫ নমুনায় নতুন করে আরও ১৪৪ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) এর পিসিআর ল্যাবে ২৮২ নমুনায় ১২৬ জন, ঢাকায় পাঠানো ৪৯ নমুনায় ৮জনের এবং টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ১৪ নমুনায় ১০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার ৪১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এদের মধ্যে সদরের ১০০, সোনাতলার ১৪, গাবতলীর ১৩, দুপচাঁচিয়ার ১০, শাজাহানপুরে ৩ এবং শিবগঞ্জ, আদমদীঘি, শেরপুর ও কাহালুতে একজন করে। এছাড়া একই সময়ে ১৩৬ জন সুস্থ হয়েছেন।
বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন শনিবার জেলার করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে এ সব তথ্য জানান।
নোয়াখালী
নোয়াখালী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে স্থাপিত ১২০ শয্যার কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত দুইজনই পুরুষ।
শনিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের ইনচার্জ ডা. নিরুপম দাশ বলেন, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় কোভিড হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত আরও দুইজন মারা গেছেন। নতুন ভর্তি হয়েছেন ১৯ জন। আগের ভর্তিকৃত ৪জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ৪৩ জন নারী রোগীসহ চিকিৎসাধীন আছেন ৭৪ জন। যার মধ্যে ২৫ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন, তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
আরও আসছে…a

Loading