২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:০০
শিরোনাম:

‘করোনার চেয়েও চাকরি নিয়ে বেশি ভয়’, তাই হেঁটেই রওনা

কঠোর লকডাউনের মধ্যে গার্মেন্টসসহ শিল্পকারখানা খোলার খবরে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা রংপুর থেকে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের কলকারখানার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকে করে কেউ কেউ রাজধানী অভিমুখে রওনা করলেও অন্য শ্রমিকরা বাধা দিচ্ছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এ সময় বাধা দেওয়া শ্রমিকরা বলেন, একদল যদি কারখানায় যায়, আর আমরা যদি যেতে না পারি, তবে মালিকপক্ষ কোনো অজুহাত শুনবে না। বলবে ওরা আসতে পারল, তোমরা কেন পারনি। এজন্য কেউ যাতে যেতে না পারে, আমরা তাদের বাধা দিচ্ছি। তাদের যেতে দেব না।

ভুক্তভোগী শ্রমিকরা বলেন, করোনার চেয়ে আমাদের বেশ ভয় চাকরি নিয়ে। ঠিক সময় পৌঁছাতে না পারলে চাকরি হারাতে হবে। আমরা চাকরি হারাতে চাই না। কারণ চাকরি না থাকলে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার অবলম্বন থাকবে না। আর পুলিশ বলছে, সরকারের নির্দেশে গণপরিবহন বন্ধ আছে, কোনো গাড়ি যেতে দেওয়া হবে না।

রংপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর বেলাল হোসেন বলেন, সরকার ও পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ আছে। কোনো গণপরিবহন আমরা যেতে দেব না। গণপরিবহন বন্ধ রেখে কলকারখানা খুলে দেওয়ায় নগরীর মডার্ন মোড়ে এসময় বিক্ষোভ করে শতশত শ্রমিক। তাদের অভিযোগ, কারখানা খুলে দিলেও শ্রমিকরা কিভাবে সেখানে পৌঁছাবে তার কথা কেউ ভাবছে না। অথচ সময় মতো কারখানায় উপস্থিত হতে না পারলে মালিক তাদের চাকরিতে রাখবে না। তারা অতি দ্রুত গণপরিবহন খুলে দেওয়া বা বিকল্প কোনো উপায় খুঁজে বের করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

নগরীর মডার্ন মোড় ছাড়াও সাতমাথা ও মেডিকেল মোড় এলাকাতেও শতশত শ্রমিককে হেঁটে রাজধানী অভিমুখে যেতে দেখা গেছে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছুটা পথ হেঁটে গিয়ে ট্রাক, মাইক্রোবাস, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে চেপে রওনা হতে দেখা গেছে। হঠাৎ করে কলকারখানা খোলার খবরে যানবাহনগুলো সুযোগ বুঝে বেশি ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকেরা। তারা বলেন, ঈদের সময় ৬০০-৭০০ টাকায় যাতায়াত করা গেলেও এখন ২-৩ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করছে তারা।

রাজধানী ঢাকাসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে কাজ করে এমন অন্তত ৬৫ ভাগ শ্রমিকের বাড়ি রংপুর ও আশপাশের জেলাগুলোতে। লকডাউনে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকার কলকারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ায় ঈদের সময় তারা গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।

Loading