৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৫৮
শিরোনাম:

দিল্লি কা লাড্ডুর মতো তালেবান লাড্ডুরও স্বপ্ন দেখে লাভ নেই: নানক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক আরো বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সুযোগ নেই। ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ রক্তাক্ত করার কথা ভুলিনি। সেই আগস্ট মাসে মঙ্গলবার আকস্মিক কর্মসূচি দিলেন। তখনই বুঝেছিলাম ডাল মে কুচ কালা হ্যায় ?

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

তিনি বলেন, আমরা কিন্তু ভুলিনি। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেই একাত্তরের পরাজিত সাম্প্রদায়িক শক্তি জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে একশ দিনের কর্মসূচি দিয়েছিলেন। সেই একশ দিনের কর্মসূচি ছিল আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করার।

বিএনপির সেই শাসনামলে সাবেক সাবেক অর্থমন্ত্রী এস এম কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুর ইমামসহ সারাদেশে অনেক নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ড ঘটানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে সেই দিনের সেই ঘটনার জন্য মির্জা ফখরুল ইসলামের কাছে তার জবাব চান নানক।

তিনি বলেন, ফখরুল ইসলাম আপনি বলেছেন, আমাদের সহযোগী সংগঠন উচ্ছৃঙ্খল হয়ে গেছে? তারা কারও বাধা মানে না। যদি তাই হতো তাহলে মঙ্গলবার তেজগাঁও’র ডিসি সাহেব আপনাদের আক্রমণে আহত হতেন না। যদি আমাদের সংগঠন মোতায়েন করতাম তাহলে এই ২৭ জন পুলিশ আহত হতো না।

নানক বলেন, ভারতের নির্বাচনে মোদি সাহেব যখন জয়লাভ করলেন, তখন রসগোল্লা খেলেন এবং রসগোল্লা বিলালেন। ভাবখানা যেন দিল্লির মসনদে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। বিজেপি নেতা মোদি এসেছে, কাজেই খালেদা জিয়াকে সুন্দর সাজুগুজু করে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। সেইদিনও আপনারা উল্লাস করেছিলেন। আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর আপনারা জানান দিয়েছেন, আমরা আছি। এই জানান দিয়ে কোনো লাভ নেই। এই দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষতার। এই বাংলাদেশ হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবার। এই বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করা যাবে না।

বুধবার রাজধানীতে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের দারুস সালাম থানা আয়োজিত ১৫ আগস্ট শহিদদের মাগফিরাত কামনা ও করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। পরে উপস্থিত অসহায় দুঃস্থ মানুষের মধ্যে ১০ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসাবে দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাহলেই সম্ভব মৌলবাদী জামায়াত-বিএনপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার ৩৪ মন্ত্রীর মধ্যে ২৩ জন শপথ নিয়েছিল। যারা সৎ তারা কিন্তু মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দেননি। জীবন ও রক্ত দিয়েছেন। কিন্তু মোশতাকের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি। তাই আমাদের যদি অসৎ নেতৃত্ব থাকে, তখন যেকোনো দুর্যোগ সামনে এলে হয় তারা আত্মসমর্পণ করবে, নয়তো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবে। তাই মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম মাজহারুল আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি, সংসদ সদস্য আগা খান মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, দপ্তর সম্পাদক উইলিয়াম প্রলয় সমদ্দার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন প্রমুখ।

 

Loading