২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৮:৫৬
শিরোনাম:

কলেজের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, অধ্যক্ষের নামে তিন ফ্ল্যাট

২৫ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে রাজধানীর মিরপুর কলেজের অধ্যক্ষ মো. গোলাম ওয়াদুদের বিরুদ্ধে। সেইসঙ্গে তার নামে পাওয়া গেছে তিনটি ফ্ল্যাটের সন্ধান। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলার করার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। তার বেতন বন্ধের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে- কেন তার এমপিও স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মো. গোলাম ওয়াদুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সব খরচের বিষয়ে গভর্নিং বডির অনুমোদন রয়েছে। অধ্যক্ষ নিয়োগও সঠিকভাবে হয়েছে। তিনটি ফ্ল্যাটের কথা বলা হলেও একটির টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি দুটি বুঝে পাইনি।’

গত ১৭ আগস্ট আঞ্চলিক উপপরিচালক এবং কলেজের সভাপতিকে অধ্যক্ষ গোলাম ওয়াদুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। অপর একটি চিঠিতে কেন ওই অধ্যক্ষের এমপিও স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের তিনটি চিঠিতে অধ্যক্ষের দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের তদন্তে অধ্যক্ষ মো. গোলাম ওয়াদুদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

অধিদফতরের চিঠিতে জানা গেছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে মো. গোলাম ওয়াদুদকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ এবং তার নামে তিনটি ফ্ল্যাট থাকার বিষয়টিও প্রমাণ হয়েছে। ডাকঘর ও শেয়ারবাজারে তার বিনিয়োগ আছে। কলেজ তহবিল থেকে দুই দফায় ৮ লাখ টাকা নিয়েছেন এবং ২০১৮ সালে তহবিলের দুই লাখ টাকা হিসাবরক্ষকের কাছ থেকে নিয়েছেন- যা আত্মসাৎ হিসেবেই ধরা হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, পরিতোষিকের ১২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা অধ্যক্ষের কাছ থেকে ফেরতযোগ্য। নির্মাণখাতের ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ও আত্মসাৎ হিসেবে ধরা হবে। ওই খাতের ৫৮ লাখ টাকা খরচের ভাউচারই পাওয়া যায়নি। লিপি ফার্নিচার মার্টকে ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়নি। দুজন হিসাবরক্ষকের সম্মানি বাবদ দেওয়া ১৬ হাজার টাকাও তার কাছ থেকে আদায়যোগ্য। শিক্ষাসফরে ব্যয় করা টাকার মধ্যে ৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকাও আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

পথসভার ব্যয় সাড়ে ১৮ লাখ!

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী পথসভায় ব্যয় দেখানো হয় প্রায় ১৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। যা আত্মসাতের সামিল। শান্তি পতাকা বাবদ এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিধি মোতোবেক ব্যয় করা হয়নি।

কলেজ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি বই বিতরণ সমাবেশে তিন লাখ ৯৪ হাজার ৭২৫ টাকার ভাউচারটিও সন্দেহজনক বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

রশিদ ছাড়া আদায়

প্রসংশাপত্র দেওয়ার সময় রশিদের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয়নি এবং ওই টাকা প্রতিষ্ঠানের তহবিলেও জমা করা হয়নি। ছাত্রছাত্রীদের বেতন বই বিক্রি করা হয় ২৫ টাকা করে। ওই টাকারও রশিদ দেওয়া হয়নি। কোচিং ফি’র টাকাও আদায় করা হয় রশিদ ছাড়া।

২৪ কোটি টাকার বেশি নগদ ব্যয়

কলেজের আয় করা টাকার মধ্যে সকল আয় ব্যাংকে জমা করা হয় না। এমনকি ব্যয় করা প্রায় ২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা হাতে রেখে নগদ ব্যয় করা হয়েছে।

ক্যাশ বইয়ের আয়ের সঙ্গে রেজিস্ট্রারে থাকা আয়ের গরমিল পাওয়া গেছে ৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার।

উপকমিটির সম্মানি ১২ লাখ টাকার বেশি

নিরীক্ষা অধিদফতরের প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের পোশাক তৈরি বাবদ ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাৎ হিসেবে গণ্য। এ ছাড়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও আছে গোলাম ওয়াদুদের বিরুদ্ধে। কলেজ উন্নয়নখাতে উপকমিটিকে সম্মানি বাবদ দেওয়া হয়েছে ১২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। যা বিধিবহির্ভূত ব্যয়।

সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরত যায়নি

ভ্যাট বাবদ প্রায় ৪৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তদন্তের সময় পর্যন্ত তা জমা করা হয়নি। আয়কর বাবদ ১০ লাখ ৯০ হাজার ৫৭৬ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হলেও তদন্তের সময় পর্যন্ত তা জমা করা হয়নি।

এতা বেশি টাকা নগদ ব্যয় ও অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মো. গোলাম ওয়াদুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৯ বছরে এই টাকা ব্যয় হয়েছে। সব ব্যয়ের অনুমোদন রয়েছে গভর্নিং বডির।’

Loading