৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০৭
শিরোনাম:

ভয়ংকর মাদক আইসের ব্যবসায় উচ্চবিত্তের সন্তানরা

বিদেশে উচ্চ শিক্ষাগ্রহণ শেষে হাল ধরতে পারতেন বাবার ব্যবসায়। অথচ তা না করে জড়িয়ে পড়েছেন মাদক ব্যবসায়। উচ্চ বিত্ত পরিবারের সন্তান এমন ১০ জনকে ইয়াবা ও আইস’সহ গ্রেপ্তার করেছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। কর্মকর্তাদের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া সবাই মাদক ব্যবসায়ী।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা আইস পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে এসেছে বলে জানান মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

খালি চোখে দেখতে ছোট একখণ্ড বরফের টুকরা। অথচ ‘আইস’ নামে পরিচিতি পাওয়া প্রাণঘাতী এই মাদকের প্রভাব ইয়াবার চেয়েও ২০ গুণ বেশি।

পোশাকে চাকচিক্য, চেহারায় চালচলনে আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট। এই তরুণ-তরুণীরাই সেবন করছেন ব্যয়বহুল মাদক আইস। জড়িয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ও। প্রায় এক মাসের অনুসন্ধান শেষে শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় এই তরুণদের।

শনিবার তেজগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, আমরা একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে ও গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করে বনানী, উত্তরা, বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় ‘আইস’ এর এই শক্তিশালী নেটওয়ার্কে আমরা শনাক্ত করতে সক্ষম হই। সে অনুযায়ী ঢাকা মহানগরী বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে রুবায়াত (৩২), মো. রোহিত হোসেন (২৭), মাসুম হান্নান (৪৯), আমান উল্লাহ (৩০), মোহাইমিনুল ইসলাম ইভান (২৯), মুসা উইল বাবরকে (৩৯) গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বসুন্ধরা বারিধারা আবাসিক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সৈয়দা আনিকা জামান ওরফে অরপিতা জামান (৩০), লায়লা আফরোজ প্রিয়াকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে আবার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তানজীম আলী ও হাসিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫০০ (পাঁচশত) গ্রাম আইস ও ৫০০০ (পাঁচ হাজার) পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য অর্ধকোটি টাকা। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুই জন মালয়েশিয়া ও যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাদের অভিভাবকদের সবাই ব্যবসায়ী ও ধনাঢ্য ব্যক্তি।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, আইস সেবনের পাশাপাশি ইয়াবার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দেখতে বরফের মতো হওয়ায় সহজেই পরিবারকে ফাঁকি দিতে পেরেছেন উচ্চবিত্ত পরিবারের এই সন্তানেরা। মূলত এই দুই কারণেই দেশে আইসের ব্যবহার বাড়ছে।

তবে কাদের মাধ্যমে দেশে আইস আসছে তা খুঁজে বের করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

Loading