‘ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে’ সরকারকে বিদায় করার ঘোষণা দিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে তার দল গণফোরামের এক আলোচনায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!দলটির ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়, যার সভাপতিত্ব করেন ড. কামাল হোসেন নিজেই।
১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে গণফোরাম প্রতিষ্ঠা করলেও রাজনীতিতে কখনও আলোড়ন তুলেতে পারেননি গণফোরাম নেতা। তবে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তিনি আলোচনায় চলে আসেন। সে সময় বিএনপি জোটের সবচেয়ে বড় দল হয়েও ড. কামালকে সামনে নিয়ে আসে। তবে নির্বাচনের পর তিনি গুরুত্ব হারান বিএনপির কাছে। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও এখনও নিষ্ক্রিয়।
ড. কামাল বলেন, আমরা ২৮ বছর ধৈর্য ধরেছি। প্রতিবারই আন্দোলন করে মুক্ত হই। কিন্তু এরপর স্বৈরাচারী সরকার অত্যাচার করে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। এবার আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে শুধু ক্ষমতাকে পুনরুদ্ধারই করবো না; ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য আমরা সেভাবেই সংগঠিত হবো। তারা আমাদের আর সহজে বঞ্চিত করতে পারবে না।’
তিনি বলেন, আমাদের এখন মূল কাজ হলো মানুষের মাঝে যে ঐক্য আছে, তা কার্য়করভাবে সংগঠিত করে, সরকারের কুশাসনের যে শিকার হয়েছি, স্বৈরশাসনের শিকার হয়েছি, সেটা থেকে মুক্ত হয়ে… জনগণের ক্ষমতা হাতে নিয়ে দেশকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে যাতে হবে।
‘এটা শুরু করা দরকার, অনেক সময় চলে গেছে। এখন দ্রুত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে বিদায় দিই। এই সরকার যথেষ্ট করেছে। পুঁজিবাজার থেকে লুট করেছে। অনেক ধনদৌলত করেছে।’
দেশের মানুষের উদ্দেশে ড. কামাল বলেন, এবার আমাদের সুযোগ দিতে হবে, আমরা যাতে দেশকে বাঁচাতে পারি।
সব দিক থেকে সাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ এখন বুঝতেছে যে, বাঁচতে হলে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কেউ আমাদের মুক্ত করবে না।
জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো ড. কামাল তার নিজ দলেই ঐক্য আনতে পারেননি। গত বছরের অক্টোবরে কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে স্পষ্ট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় তার দল। এরপর নানা নাটকীয়তায় সর্বশেষ ফের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বলেন নেতারা। তবে দলে বিভক্তি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারছেন না তারা। আর এই আলোচনাতেও ছিলেন না সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু এবং তার অনুসারীরা।
দলে বিভক্তির এই চিত্র দেখে আলোচনায় অংশ নেয়া গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী দুঃখও প্রকাশ করেন।
ড. কামাল বলেন, আমরা গণফোরাম সকল শক্তি নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। সময় আর সকলকে নিয়ে সংগঠিত হয়ে মানুষের উজ্জ্বল ভবিষৎ গড়ে তুলবো।
আগামীতে তার নেতৃত্বে কেমন আন্দোলন হবে, সে বিষয়েও জানান তিনি। বলেন, বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সবাইকে বলে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা জ্বালাও-পোড়াওয়ের আন্দোলন চাই না। ঐক্যের আন্দোলন চাই। দেশকে দুর্নীতি, চুরিচামারি থেকে মুক্ত করবো।
‘আমাদের লক্ষ্য হবে, এই দেশের মালিক জনগণ। দেশের মলিক যদি জনগণ হয়, সরকার হবে জনগণের। সেই সরকার দেশের জন্য কাজ করবে, দেশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কাজ করবে।’
![]()