৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:৪০
শিরোনাম:

লুঙ্গি পরে অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়ায় ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

অনলাইন পরীক্ষায় লুঙ্গি পড়ে অংশগ্রহণের দায়ে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ফুড প্রসেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০তম ব্যাচের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালীন এই বহিষ্কার করা হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এছাড়াও একই পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে দুজনকে বহিষ্কার এবং একজনের নির্দিষ্ট সময়ের আগে খাতা জমা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা থেকে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অসদুপায় অবলম্বন না করলেও তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে বিভাগ সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন সরকার জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি নিয়ে মিটিং করে সমাধান করবেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিন সাজ্জাদ হোসেন সরকার রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি। নিজের ছেলেকে ফেলে সতীনের ছেলেকে কোলে নেওয়া, যাতে সতীনের ছেলে হাঁটতে না শেখে। ভুলের উর্ধ্বে কেউ নয়, আমরা শিক্ষক, আমাদেরও ভুল হতে পারে। তবে, ছাত্ররা যদি আমাদের ভুল ধরে, তাহলে বেঁচে থাকাই কঠিন। তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে, আমাদের হাতে সব, আমরা ইচ্ছে করলে সব ঠিক করে দিতে পারি। এখন একটা ঘটনা ঘটে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা একটা মিটিং ডাকবো, সেখানে সমাধান করা হবে।’

জানা যায়, গত সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ফুড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের রসায়ন (কোর্স কোড CHE-111) পরীক্ষা ছিল। দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া ওই অনলাইন পরীক্ষায় লুঙ্গি পরিহিত দুই শিক্ষার্থীসহ মোট পাচজনকে এক্সপেল করা হয়। এছাড়াও একজনের নির্দিষ্ট সময়ের আগে খাতা জমা নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে ইম্প্রুভ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ১৭ ব্যাচের জুবায়ের রকি খান (ছদ্মনাম) নামে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। রকি খান বলেন, ‘পরীক্ষা শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে আমাকে ক্যামেরা এঙ্গেল ঠিক করতে বলা হয়। তখন ক্যামেরা উপর-নিচ করার সময় আমার লুঙ্গি স্যারের দৃষ্টি গোচর হয়। তখন স্যার লুঙ্গি নিয়ে কথা তোলেন। তবে এছাড়াও আমাকে স্যার কয়েকবার ডাকলে আমি না শোনায় স্যার আমাকে জুম মিটিং থেকে বের করে দেন এবং এক্সপেল করেন।’

তার মিনিট দশেক পর বহিষ্কার করা হয় ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাসেলকে (ছদ্বনাম)। তিনি বলেন, ‘‘আমি যেখানে বসে পরীক্ষা দিচ্ছিলাম, তার পেছনে জানালা থাকায় আলো আসছিল। আমার মুখ ক্যামেরায় সুন্দরভাবে দেখা যাচ্ছিল না। তখন স্যার আমাকে জানালায় পর্দা দিতে বললে আমি উঠে যাই। জানালা বন্ধ করার সময় স্যার আমার লুঙ্গি দেখতে পান। তারপর ড্রেস কোডের কথা তুলে স্যার আমাকে জুম থেকে বের করে দেন। আমি পরে স্যারকে কল দিলে তিনি বলেন, ‘তুমি এক্সপেল’’।

রাসেল আরও বলেন, ‘আমার আগে একজনকে (রকি) বহিষ্কার করা হয়েছিল, তিনিও লুঙ্গি পড়া ছিল। আমিও যেহেতু লুঙ্গি পরা ছিলাম, তখন ওই শিক্ষার্থীর সাথে যেন বেইনসাফি না হয়, এজন্য আমাকেও বহিষ্কার করা হয়।’

লুঙ্গি পরার দায়ে বহিষ্কৃত ২০ ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী আকাশ রহমান (ছদ্মনাম) রাইজিংবিডিকে জানান, তিনি পরীক্ষা চলাকালীন ক্যামেরার বাইরে তাকাতাকি করছিল। ফলে তাকে তার রুমের চারপাশ দেখাতে বলা হয়। যখন তিনি চারপাশ দেখান, তখন তার পরনের লুঙ্গিও দৃষ্টিগোচর হয় এবং তাকেও জুম মিটিং থেকে বের করে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট থেকে করোনা মহামারির ফলে সৃষ্ট সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে অনলাইন পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

Loading