২৫শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:১০
শিরোনাম:

ধানক্ষেতে শিশু-কিশোররা খুঁজে বেড়াচ্ছে ইঁদুরের গর্ত

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কেটে নেওয়া ধানক্ষেতে শিশু-কিশোররা খুঁজে বেড়াচ্ছে ইঁদুরের গর্ত। কারও হাতে কোদাল, দা আর খোন্তা। অবার কারও হাতে ব্যাগ। আমন ক্ষেত থেকে সদ্য ফসল সাফ হওয়া ইঁদুরের জমানো ধানে ভাগ বসাচ্ছে তারা। এছাড়া ক্ষেতে পড়ে থাকা ধানের শিষের মালিকানাও ওইসব শিশু কিশোরদের। উপজেলার গ্রামের পর গ্রাম জুড়ে এ দৃশ্য। প্রতিদিনই ধান কুড়ানি শিশুরা দল বেঁধে ছুটে যায় ফসলের মাঠে। যেন তাদের দম ফেলার ফুসরত নেই। ইঁদুরের গর্ত কিংবা ঝরে পড়া ধান দেখলেই ওদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে সোনালি হাসি। স্থানীয়রা জানায়, রোদ কিছুটা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ধানের ক্ষেতে ভিড় করে ছোট ছোট শিশুর দল। ধান কাটার পরে নাড়ার সাথে দুই এক গোছা ধান
থাকলে সেগুলো কুড়িয়ে নেয় ওরা। এছাড়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের বউ-ঝিরা ধান কুড়িয়ে নিচ্ছেন। আমন ধান কাটার এ মৌসুমে অনেক শিশু
কিশোর স্কুলে না গিয়ে দিন পার করছে ফসলের মাঠে ইঁদুরের গর্তের ধান সংগ্রহে।

উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামে ক্ষেতে পরিত্যক্ত ধান কুড়াতে ব্যস্ত ছোট্ট শিশু রবিউল। তার সারা গায়ে লেগে আছে কাদা মাটির
ছোপ ছোপ দাগ। আর এর একটু পাশেই শিশু হাসান, তহিদুল, মানসুরা ও মিতু দীর্ঘক্ষণ ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান উদ্ধারে চেষ্টা করছে। ওদেরই একজন
হাসান। তার সাথে কথা হলে জানায়, কৃষকরা মাঠ থেকে ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার পর অনেক ধানের ছড়া এমনিতেই পড়ে থাকে। সেগুলো আমরা কুড়িয়ে নেই। এছাড়া ইঁদুরের গর্ত খুঁড়লে পাওয়া যায় ধান। এক একটি গর্ত থেকে ১০ কেজির বেশি ধান পাই। যখন ধান পরিমানে বেশী হবে তখন তা
বিক্রি করা হবে। কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ধান কুড়াতে ক্ষেতে এসব শিশুর দল হুমড়ি খেয়ে পড়ে। তাদের মূল টার্গেট হলো ক্ষেতে ঝরে পড়া কিংবা ইঁদুরে কেটে নেওয়া ধান সংগ্রহ। সকাল থেকে সন্ধ্যার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত এসব শিশু- কিশোররা মাটি খোঁড়াখুঁড়িতে ব্যস্ত থাকে।

তুলাতলী গ্রামের বাসিন্দা মো.মনির হোসেন বলেন, ক্ষেত থেকে ইঁদুর ধানের শিষ কেটে নিয়ে আপৎকালীন খাদ্য হিসেবে গর্তে মজুদ রাখে। আর ওইসব শিশু-কিশোর সেই গর্ত খুঁড়ে ইঁদুরের খাদ্য বের করে। তবে এতে ঝুঁকিও রয়েছে। গর্তে বিষধর সাপ থাকতে পারে। তবে এ ধান কাটার মৌসুমকে ঘিরে এ কাজের সঙ্গে অভাবী পরিবারের লোকজনও জড়িয়ে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ বলেন, ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে ধান বের করা, এটা নিরাপদ নয়। গর্তে সাপ থাকতে পারে। তবে আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষকরা ক্ষেতের ধান কাটলে মাঠে ধান পড়ে থাকবে না। এতে কৃষকরাও উপকৃত হবে। এছাড়া ইদুর নিধনের জন্য কৃষকদের বিভিন্ন
ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।