নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর ধানমন্ডি-২৭ নম্বর এলাকায় প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। তারা সড়কে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র ও চালকের লাইসেন্স দেখেছেন। যাদের কাগজপত্র ঠিক রয়েছে তাদের যেতে দিচ্ছে ও যাদের ঠিক নেই তাদের পুলিশে সোপর্দ করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!আন্দোলন চলাকালে সাভার পরিবহন ও ঠিকানা পরিবহনের দুটি বাস শিক্ষার্থীদের সামনে পড়লে সেটি থামিয়ে কাগজপত্র ও লাইসেন্স চেক করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। এ সময় বাসে চালকের আসনে ড্রাইভারকে পায়নি শিক্ষার্থীরা। হেলপার বাসটি চালাচ্ছিলেন। পরে ট্রাফিক সার্জন গিয়ে বাসটি বাসটিকে ডাম্পিং করার নির্দেশনা দেন। আর ঠিকানা পরিবহনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়া এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডি-২৭ রাপা প্লাজার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। এ সময় পুলিশ ও ট্রাফিক সদস্যদের আশপাশে অবস্থান করতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের রাস্তায় অবস্থানের কারণে মিরপুর সড়ক-নিউমার্কেটগামী সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। মানিকমিয়া এভিনিউ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের গাড়ি ডাইভারসন করতে দেখা গেছে।
আন্দোলনে মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোহাম্মদপুর গভর্মেন্ট কলেজ, লালমাটিয়া মহিলা কলেজ, আইডিয়াল স্কুুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন। ‘দাবি মোদের একটাই, নিরাপদ সড়ক চাই। আমার ভাই রাস্তায় মরে, প্রশাসন কি করে। জাস্টিচ জাস্টিচ উই ওয়ান্ট জাস্টিচ। আমার ভাই মরল কেন প্রশাসন জবাব চাই’ এমন বিভন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে যখন আন্দোলন করছি, রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছি, তখনও চালক ছাড়া হেলপারের হাতে স্টিয়ারিং দেখছি। আবার চালক থাকলেও নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। আবার কোনো কোনো পরিবহনের বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের আন্দোলন চলছে চলবে। বাসসহ কোনো পরিবহন যাতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া এবং চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া চলাচল না করে সেটি দেখার জন্য আমরা ট্রাফিক পুলিশকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
দেখা যায়, প্রত্যেকটি লেনের মুখে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন যানবাহন বিশেষ করে বাস, মালবাহী কাভার্ড ভ্যান আটকে কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখছেন। যেসব পরিবহনে বৈধ কাগজ পাওয়া যাচ্ছে না বা চালকের অনুপস্থিতি কিংবা চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এমন পরিবহনগুলোকে রাস্তার পাশে আটকে যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চালক ও হেলপারকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করছেন শিক্ষার্থীরা।
ধানমন্ডি ২৭ এলাকার কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট রিয়াদুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীরা পরিবহনের কাগজপত্র দেখছে, বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেখছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স শো করতে বলছে চালকদের। দুটি পরিবহনে আমরা ব্যত্যয় লক্ষ্য করেছি। একটি ঠিকানা পরিবহন ও অপরটি সাভার পরিবহন। সাভার পরিবহনে চালকের অনুপস্থিতিতে হেলপার চালাচ্ছিল বাসটি। সেজন্য সেটি ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে। আর ঠিকানা পরিবহনের বাসেও আসল চালক নেই। তিনি বাস চালালেও তার লাইসেন্স নেই। সেজন্য বাসটির বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
![]()