৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১:৪৯
শিরোনাম:

সেই নারী সার্জেন্টের বাবার বিরুদ্ধে উল্টো জিডি করলেন বিচারপতির ছেলে

এক বিচারপতির ছেলের প্রাইভেটকারের চাপায় পা হারিয়েছেন বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মনোরঞ্জন হাজং।হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতড়াচ্ছেন। তার মেয়ে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেট মহুয়া হাজংয় দ্বারে দ্বারে ঘুরে দুই সপ্তাহ পর থানায় মামলা করতে সক্ষম হন।কিন্তু তার দুইদিন আগেই মহুয়ার বাবার বিরুদ্ধে উল্টো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই বিচারপতির ছেলে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মনোরঞ্জনের ওপরই দুর্ঘটনার দায় চাপিয়ে এই জিডি করা হয়।জিডিতে বিচারপতির ছেলে সাঈদ হাসান বলেন, ‘তার গাড়িটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়নি বরং বেআইনিভাবে উল্টো দিক থেকে মনোরঞ্জনই তার গাড়িতে লাগিয়ে দেন। এতে তিনি ও তার স্ত্রীর প্রাণহানির মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল। তাই উল্টোপথে মোটরসাইকেল চালানোর জন্য এই দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব মনোরঞ্জন ওপরই বর্তায়।’

জিডির কপিতে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বনানী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর গাজীর নাম দেখা গেছে।

জিডিতে সেদিনের ঘটনার বর্ণনায় বিচারপতির ছেলে উল্লেখ করেন, ‘গত ২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সেই রাতে, মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে নেমে চেয়ারম্যানবাড়ির ইউলুপ ঘুরছিলেন তিনি। এ সময় উল্টো দিক থেকে এসে মনোরঞ্জনের মোটরসাইকেলটি তার গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি সেখানেই প্রাচীরে লেগে যায় এবং প্রাণহানির ঘটনার সম্মুখীন হয়। এতে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার স্ত্রীর ডান হাতে তিনটি আঙ্গুল ফ্র্যাকচার (ভেঙে) হয়।’

বিচারপতিপুত্র সাঈদ হাসানের দাবি, এ দুর্ঘটনার পর মনোরঞ্জনকে গ্রীন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন তিনি। দুই দফায় আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন। পরে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে সেখানে অপারেশনের ব্যবস্থা, কেবিন বরাদ্দ এবং মেডিকেল বোর্ড গঠন করাসহ যাবতীয় বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন সাঈদ।

দুর্ঘটনায় তার কোনো দোষ না থাকায়, ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেয়নি এবং তার গাড়িও আটক করেনি বলে জিডিতে উল্লেক করেন সাঈদ।

জিডিতে তিনি অহেতুক হয়রানি, অপপ্রচার, মিথ্যা মামলা, মানসিক নির্যাতন, অর্থের জন্য চাপ দেওয়াসহ নানা আশঙ্কা থেকে প্রকৃত বিষয় উদ্ঘাটনের জন্য তদন্তে অনুরোধ জানান।

তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকারের চালক যুবককে আটক করেও পুলিশ ছেড়ে দেয়।মহুয়া মামলার আবেদনে গাড়িচালক যুবকের নাম উল্লেখ করার পর তাকে নামটি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বনানী থানা থেকে। কিন্তু মহুয়া তাতে রাজি হনননি।

গত ২ ডিসেম্বর মনোরঞ্জন মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি ইউলুপে।এ সময় একটি প্রাইভেটকার তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়।এতে মারাত্মক আহত হন মনোরঞ্জন। হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমে তার ডান পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত এবং পরে সংক্রমণ হওয়ায় হাঁটু পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পরই মামলা করতে বহুবার চেষ্টা করেন মনোরঞ্জনের মেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মহুয়া হাজং।কিন্তু মামলা নেওয়া হচ্ছিল না। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর ও সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।১৪ দিন ঝুলিয়ে রাখার পর অবশেষে গত ১৬ ডিসেম্বর বনানী থানা পুলিশ মহুয়ার মামলা গ্রহণ করে।

সার্জেন্ট মহুয়া গণমাধ্যমকে বলছেন, তিনি দুর্ঘটনার বিচার চেয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু ঘটনার ১৪ দিন পর বনানী থানা অজ্ঞাত আসামি দিয়ে মামলা গ্রহণ করেছে। সাঈদের বাবা বিচারপতি হওয়ায় এতকিছু হচ্ছে বলে অভিযোগ মহুয়ার।

Loading