নারীকণ্ঠে অনৈতিক কাজের প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাসী যুবকদের ইমো আইডি হ্যাক করে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!বুধবার রাতে রাজধানী, আশুলিয়া ও নাটোর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকতরা হলেন- হুসাইন আলী (১৯), সুমন আলী (২৩), তারিকুল ইসলাম (২১), শান্ত আলী (১৯) ও সাদ্দাম হোসেন (১৯)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নাটোর-রাজশাহীকেন্দ্রিক একদল কিশোর ও যুবক ইমো হ্যাকিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। তাদের কাছে এটি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা প্রবাসী যুবকদের ইমোতে অনৈতিক কাজের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রে ১৫০ থেকে ১৭৫ জন সদস্য রয়েছে। যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে।
চক্রটি প্রথমে আইডি সার্চ দিয়ে প্রবাসীদের খুঁজে বের করে। এরপর নারী সেজে নানা গল্প-কথায় এগোতে থাকে। এক পর্যায়ে অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দেয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকায় রাজি হলে চক্রটি মোবাইলের রিয়ার ক্যামেরায় অন্য কোনো কিশোরী বা নারীর ভিডিও চালু করে আড়ালে নারীকণ্ঠে কথা বলতে থাকে।
কামরুল আহসান বলেন, চক্রের সদস্যরা দুটি কৌশলে টার্গেট খুঁজে বের করে। সখ্য গড়ে তুলে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) নেয়। এছাড়া অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দিয়ে সখ্য গড়ে তোলে। এই চক্রের প্রধান টার্গেট প্রবাসীরা। তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত নারীদের লাইভ ও ভিডিও ব্যবহার করে প্রবাসীদের আকৃষ্ট করে। আর নিজেরা ছেলে কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করে নারী কণ্ঠে কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়। এমনকি অনেক সময় বিভিন্ন তথ্য ও ছবি ব্যবহার করে প্রবাসী ব্যক্তিদের ভয় দেখিয়ে বা তাদের পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতো।
সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তেমন নেই। কিন্তু তারা সবাই এক সঙ্গে কাজ করার কারণে একে অপরের কাছ থেকে প্রতারণার কৌশলগুলো সহজে রপ্ত করে নিচ্ছে। আমরা এ চক্রের বাকি সদস্যদেরও আটকের চেষ্টা চালাচ্ছি।
তাদের টার্গেট কেন প্রবাসীরা, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রবাসীরা দীর্ঘ জীবন পরিবার বঞ্চিত থাকেন। তারা মাঝে মাঝে বিনোদনের খোঁজে ইমোতে যানা। আর সেখানেই প্রতারণার শিকার হন।
![]()