নায়িকা পরীমনির চাইতে এখন বেশি আলোচনায় তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। তার ফেসবুক পেইজে তিনি সাধারণত তার কাজের ফিরিস্তি দিয়ে থাকেন। নিজের আপডেটগুলো টাইম-টু-টাইম দেন এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছবি ও ভিডিও আপলোড করেন। সেগুলো কারো চোখে শ্লীল, আবার কারো চোখে অশ্লীল মনে হতেই পারে। গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দুই জন আইনজীবি পরীমনির বিরুদ্ধে অশ্লীলতার অভিযোগ তুলে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। পাঠানো হয়েছে এফডিসির ঠিকানায় শিল্পী সমিতিতে। বুধবার পর্যন্ত শিল্পী সমিতিতে এই নোটিশ পৌঁছায়নি। সুতরাং পরীমনিও নোটিশটি হাতে পাননি।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!কিন্তু গণমাধ্যমের কল্যাণে তিনি নোটিশটি এবং নোটিশের সারমর্ম সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। নোটিশে লেখা হয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত পরীমনির সব ধরনের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সব ধরনের অশ্লীল সংলাপ, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য যা চলচ্চিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও ভিস্যুয়াল, স্থিরচিত্র, গ্রাফিক্স বা অন্য কোনো উপায়ে ধারণ করা ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যার কোনো শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই, এসব করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে তাকে।
এই আইনি নোটিস নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জি ২৪ ঘণ্টাকে পরীমণি জানান, ‘আমি কোনও আইনি নোটিশ পাইনি। ব্যাপারটা কী অদ্ভুত না! সব সাংবাদিকরা পেল আর যাকে নোটিশ পাঠানোর কথা সেই কোনও নোটিশ পেল না। খুবই মজার। আমার ফেসবুক তো সকলের কাছে খোলা। একটু দেখে নিন আর তারপর বলুন আমার পেইজে ঠিক কোন ভিডিওটা অশ্লীল। আমার পেইজে এমন কোনও ভিডিও নেই যেটা সরাতে হবে। যদি সরাতেই হয় তাহলে আমাকে অপমান করে যারা ভিডিও বানিয়েছে তাদের সরাতে হবে। ফেসবুক সম্পর্কে আগে তো জানতে হবে তাদের।’
এই নোটিশের প্রতিক্রিয়ায় পরীমনি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার পেইজে এমন কোনো ভিডিও নেই যেটা আমাকে সরাতে হবে। কেউ যদি সেটা দেখিয়ে বলতে পারেন, আমি সরাব। ফাইভ স্টার হোটেলে আমি যে অনুষ্ঠান করেছি, সেখানকার কোনো ভিডিও বা স্টিল ছবি আমি ফেসবুক ছেড়েছি? আমার অনুমতি ছাড়া বাইরে থেকে এগুলো ছাড়া হয়েছে। কোথায় কে কোন ভিডিও দেখল, সেই ভিডিও আমার ঘাড়ে চাপাতে পারেন না।’ পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘যেসব ছবির ইঙ্গিত করে নোটিশ দিয়ে আমাকে সেগুলো সরাতে বলা হয়েছে, সেসব ছবি আমি আপ করেছি? আমার আপ করা এমন একটি ছবিও কেউ দেখাতে পারবেন? এর আগে হাতে সিগারেটসহ দুটি ছবি আদালত থেকে সরাতে বলা হয়েছিল, এক ঘণ্টার মধ্যে সরিয়েছি।’
পরীমনি বলেন, ‘জন্মদিনের অনুষ্ঠানের পর আমাকে অপমান করে যে ভিডিওগুলো বানানো হলো, অনুষ্ঠানের গান বাদ দিয়ে অশ্লীল গান জুড়ে ভিডিওগুলো ভাইরাল করা হয়েছে। এখন খেলা জমে যাবে। আমি উল্টো ওদের নামে অভিযোগ করব। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের নাম উল্লেখ করে পরীমনি জানান, চ্যানেলটি তার বেশি ক্ষতি করেছে। তিনি বলেন, ‘এমন একটি দায়িত্বশীল চ্যানেল আমার জন্মদিনের অনুষ্ঠানের মূল গান বাদ দিয়ে অশ্লীল বাংলা গান জুড়ে ভিডিও প্রকাশ করেছে। কীভাবে করল এটা? তারা কী চায়? অনুষ্ঠানটি ছিল আমার ব্যক্তিগত, চার দেয়ালের মাঝে। আমার অনুমতি ছাড়া কেন আমার অনুষ্ঠানের ভিডিও প্রকাশ করা হলো? এখন যদি আমি তাদের নামে অভিযোগ করি, তাহলে এর বিচার করবে কে? আমি অবশ্যই ওদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলব।’
পরীমনি বলেন, ‘জেলখানা থেকে এসে জমে থাকা বহু কাজ করতে হয়েছে। ভেবেছিলাম, সব ছেড়ে কাজকে ধ্যানজ্ঞান করব। কিন্তু এ আমি কী দেখছি? পরীমনি এখন কাজ করছে, কারও ভালো লাগছে না। আমি জাস্ট কাজের মধ্যে থাকতে চেয়েছিলাম। আমাকে কাজ করতে দেওয়া হলো না। ঠিক আছে, আমিও খেলব এবার। যারা এসব করছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করব। ভিডিও ধরে ধরে সবগুলোর নামে অভিযোগ আনব।’
পরীমনি বলেন, ‘আমি এখন ওই দুই উকিলের নামে নোটিশ পাঠাব। আমাকে ডিস্টার্ব করেছেন তারা, আমার কাজ হ্যাম্পার করেছেন। আমি এখন তাদের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইব। আমার মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছেন, যার ক্ষতিপূরণ তাদের অবশ্যই দিতে হবে। এই নোটিশের খবর দেখে আমি ট্রমায় চলে গেছি। আগামী দুই মাস তো কাজই করতে পারব না।’
![]()