দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্নস্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে পরিবেশন করা হচ্ছে অশ্লীল নৃত্য। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত হিন্দি-ভজপুরী গানের সংমিশ্রণ বাজিয়ে অশ্লীল এ নৃত্য পরিবেশন হলেও নজর নেই প্রশাসনের।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!বিজয়ের মাসে বাংলার সংস্কৃতিকে দাবিয়ে রেখে বিদেশি গান বাজিয়ে এমন নৃত্য চলায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সুশীল সমাজের মধ্যে। এধরণের নৃত্য প্রদর্শনীতে দর্শক সারিতে ভিড় করছে স্কুল-কলেজ পড়য়া শিক্ষার্থীসহ এলাকার যুবসমাজ।
সুশীল সমাজের অভিযোগ, ফুলবাড়ীতে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতেও চলছে হিন্দি-ভজপুরী গানে অশ্লীল নৃত্য। এভাবেই দেদারসে উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের অনুষ্ঠানগুলোতে কিছু ক্লাব থেকে ভাড়া করা মেয়েদের নাচানো হচ্ছে। এ কারণে পরিবেশ থাকছে না পরিবার নিয়ে দেখার।
সম্প্রতি উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের মেলাবাড়ীতে বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেখা যায়, বিজয় দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গানের তালে তালে অশ্লীল নৃত্য পরিবেশনে তিন তরুণী। তাদের সঙ্গে নাচতে যোগ দেন মঞ্চের ওপর ও সম্মুখ সারিতে থাকা দর্শকরা। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বয়স্ক, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
ওইগ্রামের খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘কথা ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। কিন্তু আমি সপরিবারে গিয়ে দেখলাম বিভিন্ন ক্লাব থেকে ভাড়া করা মেয়েদের অশ্লীল নৃত্য। এমন নৃত্য দেখে স্ত্রী, বোন ও সন্তানদের নিয়ে অনুষ্ঠান থেকে উঠে আসতে বাধ্য হয়েছি।
ফুলবাড়ী সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি প্রবীণ সঙ্গীত শিল্পী প্রবীর দাস বাবু ও সহ-সভাপতি সঙ্গীত শিক্ষক গোবিন্দ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘এলাকায় গড়ে ওঠা কিছু ক্লাব ভাড়ায় মেয়েদের নাচিয়ে থাকে। তারাই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নাম কলুষিত করছে। এভাবেই চলতে থাকলে অশ্লীল ওইসব নৃত্য রাজত্ব করবে।’
ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রভাষক অমর চাঁদ গুপ্ত অপু বলেন, ‘সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে বেহায়াপনার প্রদর্শনই যুব সমাজকে ধর্ষণের মতো ঘৃণিত ঘটনা ঘটাতে উৎসাহিত করে। প্রশাসনের উচিত এধরণের অনুষ্ঠান বন্ধসহ আয়োজকদের দৃষ্টান্ত শাস্তি নিশ্চিত করা।’
ফুলবাড়ীর প্রবীণ শিক্ষক নাজিম উদ্দিন মন্ডল বলেন, ‘বিজয় দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেখানে অশ্লীল নাচ চলছে সেগুলো প্রশাসনের তদারকি প্রয়োজন। কেনোনা তরুণ-কিশোররা এধরণের নাচ দেখে বিভিন্ন ধরণের অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। আয়োজকসহ যেসকল ক্লাব মেয়েদের ভাড়া খাটিয়ে এধরণের নাচ পরিবেশন করছে তাদেরকে সমাজ থেকে বয়কট করা প্রয়োজন।’
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, কবে কখন হয়েছে এমন অনুষ্ঠান আমি জানি না এবং আমাকে কেউ জানায়নি। এমন অনুষ্ঠান চলাকালিন জানতে পারলে ব্যববস্থা নেওয়া যেতো।
![]()