নারায়ণগঞ্জের বন্দর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাজি সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে লাটিম ও ঠেলাগাড়ি প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে ভোটাররা ভয়ে কেন্দ্র ছেড়ে যান। রোববার (১৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রের সামনের সড়কে এই ঘটনা ঘটে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!২৩ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ লাটিম ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাউসার ঠেলাগাড়ি প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
সাইফুদ্দিন আহমেদ এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর। তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের অনুসারী। ঠেলাগাড়ি প্রতীকের আবুল কাউসারের বাবা সাবেক সাংসদ আবুল কালাম নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি৷
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, লাটিম প্রতীকের কয়েকজন সমর্থক কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছিলেন। এ সময় ঠেলাগাড়ি পক্ষের একজন সমর্থক তা নিয়ে পুলিশের কাছে আপত্তি জানালে লাটিম প্রতীকের সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় কেন্দ্রের বাইরে থাকা ভোটাররা ভয় পেয়ে কেন্দ্র ছেড়ে চলে যায়।
ঠেলাগাড়ি প্রতীকের এক সমর্থক বলেন, পুলিশ এখানে পক্ষপাতিত্ব করছিলেন। তাদের সামনেই লাটিমের লোকজন কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে নারী ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছিলেন। তারা কেন্দ্রের বাইরে এবং ভেতরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে। আমরা সেটার প্রতিবাদ জানিয়েছি। তখনই তারা (লাটিম সমর্থকরা) আমাদের ওপর হামলা করেছে।
লাটিমের সমর্থকরা ঠেলাগাড়ির সমর্থকদের জামায়াত-শিবিরের লোক দাবি করে বলেন, ওরা কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছিল।
কেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শোভন ভট্টাচার্য বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছে। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। পরে স্ট্রাইকিং ফোর্স এসে কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেয়। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।
এদিকে বয়স্কদের ইভিএমে ভোট দিতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানা গেছে। নারায়ণগঞ্জ সিটির বন্দর গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা চার হাজার ১২৯ জন। সবাই নারী ভোটার। এখানে ১০টি বুথে ভোট হচ্ছে। বেলা ১০টা পর্যন্ত প্রতিটি বুথে মাত্র ২২ থেকে ২৬টি ভোট পড়েছে। অনেকের ইভিএমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সকালে এ কেন্দ্রের বয়স্ক নারী ভোটাররা জানান, ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মেলায় ভোট না দিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। কুলসুম নামে এক বয়স্ক নারী ভোটার জানান, প্রায় ১০ মিনিট চেষ্টার পর ভোট দিতে সক্ষম হয়েছি।
বন্দর গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের একটি বুথের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সালাউদ্দিন কাউসার সাংবাদিকদের বলেন, ইভিএম সব ভোটারের জন্য নতুন একটি বিষয়। এজন্য ভোট দিতে দেরি হচ্ছে। এ বুথে দুই ঘণ্টায় ২২টি পড়েছে।
আরেকজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার বলেন, বয়স্ক ভোটারদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা বেশি হচ্ছে। বয়সে নবীনদের ফিঙ্গার দিতেই তা সহজেই মিলে যাচ্ছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ড। ছয়টি কেন্দ্র প্রশাসনের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ। কেন্দ্র ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শিশুবাগ বিদ্যালয়ের নারী কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, বয়স্ক নারীদের আঙুলের ছাপ মেলাতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে কেন্দ্রে প্রচুর ভোটার উপস্থিতি রয়েছে। কেন্দ্রে মোট ভোটার দুই হাজার ৬৮ জন। এর মধ্যে একঘণ্টায় এক নম্বর বুথে ভোট দিয়েছেন ১২ জন, দুই নম্বর বুথে ১৮ জন, তিন নম্বর বুথে ২১ জন, চার নম্বর বুথে ১৮ জন ও পাঁচ নম্বর বুথে ১৩ জন।
এ কেন্দ্রে মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভির ভোট দিয়েছেন। তার বাসা কেন্দ্রের পাশেই।
এদিকে সকাল সাড়ে ৮টায় নারায়ণগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল (এমএ) মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভোট সুষ্ঠু হলে তিনি লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন।
নাসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর টানা ১৮ দিন মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটের প্রচারণা চালিয়েছেন। এ সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪৬ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫১১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন।
নাসিক নির্বাচনে এবার মেয়র পদে ৭ জন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৪ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ভোটে লড়ছেন ১৪৮ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৯২টি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। এজন্য নারায়ণগঞ্জে দুই হাজার ৯১২টি ইভিএম মেশিন আনা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনের তুলনায় দেড়গুণ ইভিএম রাখা হয়েছে। এর আগে গতকাল শনিবার দুপুর থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছানো শুরু হয়।
ইসি থেকে জানানো হয়, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ১৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পেনাল কোডের অধীনে তারা মামলা নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিচার কাজ পরিচালনা করছেন।
নির্বাচনের প্রধান আকর্ষণ মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে। নির্বাচনে মেয়র পদে সাত জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক নেতা ও আইনজীবী তৈমূর আলম খন্দকার (হাতি), খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুন (দেয়ালঘড়ি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মো. মাছুম বিল্লাহ (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জসীম উদ্দিন (বটগাছ), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. রাশেদ ফেরদৌস (হাতঘড়ি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলাম (ঘোড়া)।
![]()