৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:০৪
শিরোনাম:

‘স্যার’ না ডেকে ‘ভাই’ বলায় ক্ষেপেছেন তিনি!

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন।উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন। ‘স্যার’ না ডেকে ‘ভাই’ বলায় স্থানীয় এক সাংবাদিকের ওপর ক্ষেপেছেন পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন। সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

জানা গেছে, সোমবার বেলা ১১টার দিকে রিয়াজ কাজী নামে এক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধনের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার অফিসে যান দৈনিক যুগান্তরের মীর্জাগঞ্জ প্রতিনিধি ও মীর্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সাদ্দাম। এ সময়ে নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসনকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে সমস্যার সমাধানে করণীয় বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা ক্ষেপে যান।

এ সময় সাংবাদিককে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাকে ভাই বললেন কেন? আমি আপনার কেমন ভাই? খালাতো ভাই, না চাচাতো ভাই?’ এরপর তিনি ওই সাংবাদিকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। পরে তিনি পরিচয়পত্রের সংশোধনের ব্যাপারে কিছু না বলে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও জনগণের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

মীর্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে ভাই বলে সম্বোধন করায় তিনি আমার ওপর ক্ষেপে গিয়ে নানা অশোভন আচরণ করেছেন। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেছি।’

উপজেলা নির্বাচন অফিসারের অশোভন আচরণের বিষয়ে মীর্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘‘আসলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজটি ঠিক করেননি। তাদের কাছে মানুষ সেবা পেতে চায়। তার আচরণে মনে হচ্ছে, তিনি জনগণের কাছ থেকে শুধু ‘স্যার’ সম্বোধন শুনতেই এসেছেন। তার বক্তব্য প্রত্যাহার করা উচিত।’’

‘স্যার’ না বলে ভাই বলায় ক্ষেপে যাওয়া মীর্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তাকে ভালো করে চিনি না। তিনি আমাকে ভাই বলে সম্বোধন করেছেন। রেগে রেগে কথা বলেছেন।’

পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খান আবি শাহানুর খান বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। মীর্জাগঞ্জ নির্বাচন কর্মকর্তা কেন এরকম অশোভন আচরণ করেছেন, সেটা তার কাছে জানতে চাওয়া হবে।’

মীর্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. তানিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

 

Loading