কামাল হোসেন: রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার জমিদার ব্রীজ এলাকায় কাটাতারের বেড়া দিয়ে সরকারী খাল দখল করে মাটি ভরাট করছে ভিকটর ফিডস এন্ড ভিকটর বীডার্র্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। শুধু সরকারী খাল দখল নয় আশে পাশে বসতিদেরও সরে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে প্রভাবশালী এই প্রতিষ্ঠানটি।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গন পিটিশন দিয়েও হচ্ছে না কোন প্রতিকার। যদিও গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন বলছেন, শুধু ভিকটর বীডার্স নয় প্রভাবশালী অন্য মহলও দখল করে তৈরি করেছে বিভিন্ন স্থাপনা। বিষয়টি জানানো হয়েছে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে।
ছবির এই কাটা তাড়ের বেড়া বহিঃশত্রুর আক্রমন থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য নয় ! এই বেড়া সরকারী খাল দখলের বেড়া। প্রকাশ্যে দিনের আলোয় এই কাটা তারের বেড়া প্রদান করেছে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার জমিদার ব্রীজ এলাকার ভিকটর ফিডস এন্ড ভিকটর বীডার্র্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। শুধু খাল দখল নয় আশের পাশে বসবাসকারীদের জোরপূর্বক সরিয়ে দিতে উঠে পরে লেগেছে প্রতিষ্ঠানটি বলছেন এলাকাবাসী।
সরুপার চর এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলী শেখ বলেন, জমিদার ব্রীজ থেকে সরুপার চক পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকার এই খালটি দুটি ইউনিয়ন হয়ে যুক্ত হয়েছে মুল পদ্মায়। এক সময় এখানে পাওয়া যেত প্রচুর পরিমানে দেশীয় মাছ। খালে পচানো হতো সোনালী আশ পাট। এভাবে খাল দখলের প্রতিযোগিতা চললে এই এলাকার কৃষকের কপালে দুর্দশা ছারা কিছু থাকবে না বলে জানান তিনি।
অপর বাসিন্দা ওয়াহেদ শেখ বলেন, প্রভাব খাটিয়ে তারা যেভাবে বেড়া দিয়েছে এতে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। শুধু তাই নয় এখন ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকা ছাড়ার কথা বলছেন তারা।
একই এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক মোল্লা বলেন, তারা আমার ঘরের সাথেই তৈরি করেছে মুরগির খামার দুগন্ধে বাড়িতে বসবাস করা কষ্ট সাধ্য এর উপর এখন বলছে তারা নাকি আমার বাড়ির সাথের জমি কিনেছে আমার ঘরেরও দুই শতাংশসহ। এটা কেমন কথা কার জমি কে কিনলো ? আমরা এখন কোথায় যাবো কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি । তারপরও ভয় হচ্ছে কারন রুহুল আমীন সাহেব প্রভাবশালী তার আছে টাকা।
এ ব্যাপারে কথা বলতে অভিযুক্ত ভিকটর ফিডস এন্ড ভিকটর বীডার্সে গিয়ে পাওয়া যায়নি প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. রুহুল আমীনকে। একাধীকবার ফোন দিলেও সারা পাওয়া যায়নি তার। অবশেষে তারই ম্যানেজার রুহুল আমীনকে ফোন দিলে তিনি দাবী করেন ক্রয়সুত্রে খালের জমির মালিক তিনি।
আর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুল হক খান বলেন, এ ব্যপারে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, শুধু ভিকটর বীডার্স নয় প্রভাবশালী অন্যান্য মহলও দখল করে তৈরি করেছে বিভিন্ন স্থাপনা। বিষয়টি জানানো হয়েছে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। অচিরেই প্রভাবশালী ও দখলদারদের হাত থেকে রক্ষে পাবে সরকারী খাল। পুনরায় ফিরে আসবে খালের সুদিন খালে ও বিলে মিলবে দেশীয় প্রজাতির মাছ এমনটিই আশা করছেন এলাকাবাসী।
![]()