৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:২৬
শিরোনাম:

ইভিএম নিয়ে বিপাকে বয়স্করা, গোপন কক্ষে প্রিসাইডিং অফিসার

৬ষ্ঠ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ময়মনসিংহের দুই উপজেলা ভালুকা ও ফুলপুরে ভোটগ্রহণ চলছে। ইভিএম মেশিনে দুই উপজেলায় ভোট হচ্ছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

জেলার ফুলপুর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ৭১নং শালজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ইভিএম মেশিনে প্রথমবার ভোট দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভোটাররা। ভোটাররা প্রতি ভোটে সময় নিচ্ছেন ১৫ থেকে ২০ মিনিট। ভোটারদের সঙ্গে গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট দিয়ে দিচ্ছেন প্রিসাইডিং অফিসার ও সহকারী অফিসাররা। আবার অনেক এজেন্টকেও গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে।

বিশেষ করে বৃদ্ধদের আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোট দিতে পারছেন না অনেকে। অনেকে আবার আঙুলের ছাপ তিন থেকে চারবার না মেলার কারণে ঘুরে যাচ্ছেন। আবার অনেকে হাতে গ্লিসারিন মেখেও তাদের আঙুলের ছাপ মেলাতে পারছেন না। তবে তরুণরা ইভিএম মেশিনে ভোট দিয়ে খুশি।

শালজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা বৃদ্ধা রোমেছা বেগম বলেন, কী একটা মেশিন, কিবা ভোট দিকে অইব জানি না। পরে এক স্যারে (প্রিসাইডিং) আমার সঙ্গে গিয়ে ভোট দিয়ে দিছে।

শালজান গ্রামের সালেমা খাতুন বলেন, জীবনে কোনোদিন এই মেশিনে ভোট দিইনি। কয়দিন আগে (মোকভোটিং) আগে শিখে গেছিলাম। তারপরও আইজ ভুলে গেছি কেমনে ভোট দিতে হয়। পরে আরেকজন আমার সঙ্গে গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট দিয়ে দিছে।

ইভিএম নিয়ে বিপাকে বয়স্করা, গোপন কক্ষে প্রিসাইডিং অফিসার

রহিমা খাতুন নামে আরও এক বৃদ্ধা বলেন, তিনবার ভোট দিতে গেছি। কিন্তু একবারও আঙুলের ছাপ মেলেনি। এখন হাতে গ্লিসারিন দিছি। তারপরেও যদি আঙুলের ছাপ না মেলে ভোট না দিয়েই বাড়িতে চলে যাব।

এ বিষয়ে চকপাড়া গ্রামের হাওয়া বেগম বলেন, ভোট দিতে কক্ষে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার ভোটার আইডি কার্ডের নম্বর মেলেনি। যে কারণে ভোট দিতে পারিনি। এখন বাড়িতে ফিরে যাচ্ছি। বিকেলে আবারও ভোট দিতে আসব।

ওই কেন্দ্রের ৫ নম্বর কক্ষের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হালিমা আক্তার বলেন, ভোট কিভাবে দিতে হয় বয়স্করা বুঝতে পারছে না। তাই প্রতি ভোট দিতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগছে। তবে আমরা কেউ ভোট দিয়ে দিইনি।

ইভিএম নিয়ে বিপাকে বয়স্করা, গোপন কক্ষে প্রিসাইডিং অফিসার

শালজান বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার নাজমুল আলম বলেন, ভোটারদের ইভিএমে ভোট দেয়ার জন্য মোকভোটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তারপরও বয়ষ্করা ভোট দিতে পারছেন না। বাধ্য হয়েই বয়স্কদের সঙ্গে গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট কিভাবে দিতে হয় দেখিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে কারও ভোট দিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

ফুলপুর উপজেলায় ১০ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৫২ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৪১৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১১৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১০ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬২ জন।

এদিকে ভালুকার ১১ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৬০ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৩৯৬ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১১ ইউপিতে মোট ভোটার ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৪২ জন।

Loading