৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:৫৮
শিরোনাম:

ইট দিয়ে কলেজছাত্রের বিশেষ অঙ্গ থেঁতলে দিল বখাটেরা

ঢাকার ধামরাইয়ে ইট দিয়ে মো. মুন্না নামে এক কলেজছাত্রের বিশেষ অঙ্গ ও হাত-পা থেঁতলে দিয়েছে বখাটেরা। দোকানের ভেতর থেকে ধরে নিয়ে তার ওপর এ নির্যাতন চালানো হয়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

পূর্বশত্রুতার জের ধরে ওই কলেজছাত্রের ওপর এ বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। তিনি রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজের ইংলিশ অনার্স শেষবর্ষের ছাত্র ও সুয়াপুর গ্রামের মো. পান্নো মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।

দিনের বেলায় ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানপুত্রের সঙ্গে গোপন বৈঠকের পর বুধবার দিনগত রাতে এলাকার চিহ্নিত বখাটেরা এ ঘটনাটি ঘটায় বলে নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ওই কলেজছাত্রকে মুমূর্ষু অবস্থায় সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিও) ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত (বেলা সাড়ে ৩টা) তার সংজ্ঞা ফিরে আসেনি বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার দুপুরে ধামরাই থানায় ১৯ জনের নামে একটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ধামরাই থানা পুলিশি সূত্র।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টার দিকে মো. মুন্না মিয়া নামে ওই কলেজছাত্র সুয়াপুর বাজারে মো. হানিফ আলীর দোকানে বসে কথা বলছিলেন। এ সময় এলাকার চিহ্নিত বখাটে রাসেল হোসেন, বাছেদ মিয়া, ইব্রাহিম মিয়া, পাপ্পু হোসেন, আওলাদ হোসেন, মো. হানিফ আলী, তোতামিয়া, খবির উদ্দিন, নিজামউদ্দিন, আব্দুস সবুর লেবু, শামসুল হক ও জালাল উদ্দিনসহ ১০-২০ জনে মিলে ওই দোকান ঘেরাও করে। এরপর ওই কলেজছাত্রকে ওই দোকানের ভেতর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে বিবস্ত্র করে তাকে লোহার রড ও ইট দিয়ে পুরুষাঙ্গ এবং হাত-পা থেঁতলে দেয়।

এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয় আবুর হোসেন ও সাবেক ইউপি মেম্বার প্রভাত মালো লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে ওই কলেজছাত্রকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধামরাই সদর হাসপাতালে নেয়া হলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুর ৩টার দিকে বখাটেরা সুয়াটুর ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কফিল উদ্দিনের বড়ছেলে আব্দুল হালিমের সঙ্গে গোপনে বৈঠকে করে।

চেয়ারম্যানপুত্র আব্দুল হালিম বৈঠকের কথা অস্বীকার করে জানান, অন্য বিষয়ে পরিষদের হলরুমে আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ধামাই থানার ওসি পুলিশ পরিদর্শক মো. আতিকুর রহমান আতিক বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। খুব শিগগিরই আসামিদের গ্রেফতার করা হবে। আসামিরা পালিয়ে থেকে শেষ রক্ষা পাবে না। পুলিশের হাতে তাদের ধরা পড়তেই হবে।

Loading