কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি : ফুল ফুটুক, আর নাইবা ফুটুক আজ বসন্ত। পহেলা ফাল্গুনকে বরন আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় বসেছে কাপলদের মিলন মেলা। রবিবার সকাল থেকেই এসকল পর্যটকের আগমন ঘটে সৈকতে। তবে আগত পর্যটকদের মধ্যে অধিকাংশই কাপল। এসব পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে মাঠে কাজ করছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ। সৈকত ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াকাটার জিরো পয়েন্টের পশ্চিম প্রান্তের লেম্বুরচর এবং পূর্ব প্রান্তের গঙ্গামতি সৈকত পর্যন্ত আগত পর্যটকদের পদচারনায় এখন মুখরিত। অনেকে আবার এসেছেন স্ব-পরিবারে। কেউ নেচে গেয়ে আনন্দ উন্মাদনায় মেতেছেন। আবার কেউ সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এ সকল পর্যটকদের ভীড়ে পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়িদের ব্যস্ততা দেখা গেছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!এদিকে ট্যুরিষ্ট পুলিশের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় এবং স্বাস্থ্য সম্মত খাবার পরিবেশন ও ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক,পর্যটকদের ছবি তোলায় নিয়োজিত ক্যামেরা পার্সনদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পর্যটক দম্পতি সোহান বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারনে দুইটি বছর ঘর কোনা হয়ে গেছি। তাই এবছর আর কোন বাঁধাই মানিনি। এখানে এসে
কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য এবং সৈকতের রূপ বৈচিত্র উপভোগ করছি। অপর এক পর্যটক আবুল কালাম বলেন, কুয়াকাটার দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকতের সর্বত্রই রয়েছে সোন্দার্য্যরে ভান্ডার। এখানে প্রকৃতি প্রেমীরা এসে খুব মজা পাবেন। ভালোবাসায় আবদ্ধ যুবক-যুবতী এবং নবদম্পতিদের দখলে এখন কুয়াকাটা।
হোটেল সমুদ্র বাড়ির ব্যবস্থাপক মো.জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন,করোনা পরিস্থিতির কারনে গতবছরের চেয়ে এবছর পর্যটকদের সংখ্যা খুবই কম। তবে সোমবার সকাল থেকে পর্যটকদের আগমন কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যারা আছে তারা বেশির ভাগই কাপল। হোটেল গোল্ডেন ইন’র পরিচালক কে এম জহির খাঁন বলেন, তাদের হোটেলে কাপলদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও বাহারী চকলেট দিয়ে বরন করা হবে। তবে পর্যটকদের করোনা ভাইরাসের টিকা কার্ড এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পর্যটকদের রুম
বুকিং দিচ্ছি। অনেকেই এখন অনলাইনে রুম বুকিং নিচ্ছে। আশাকরি ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে হোটেলের সবকটি রুম বুকিং থাকবে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারি পুলিশ সুপার মো.আবদুল খালেক বলেন, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের কঠোর নজরদারি রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানতে পর্যটকদের সচেতনতায় প্রচার প্রচারনা অব্যাহত রয়েছে।
পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভীড় জমেছে পর্যটকের। সাপ্তাহিক ছুটির দিন উপলক্ষে শুক্রবার সৈকতে এ সকল পর্যটকের আগমন ঘটে। আগত পর্যটকরা সমুদ্রে সাঁতার কাটাসহ প্রিয়জনদের সাথে আনন্দ উন্মদনায় মেতেছেন। বাড়তি পর্যটকদের আনাগোনায় বুকিং রয়েছে অধিকাংশ হোটেল মোটেল। তবে এ সকল পর্যটকদের মানতে দেখা যায়নি স্বাস্থ্যবিধি।
অনেকেই ব্যবহার করছেনা মাস্ক। অনেকেই মানছেনা সামাজিক দূরত্ব। তবে করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট অমিক্রনের সংক্রমন ঠেকাতে সৈকতে ট্যুরিষ্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বার বার মাইকিং করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় ও পর্যটক ব্যবসায়িরা জানান, বরিশাল-কুয়াকাটা সড়কের লেবুখালী পয়েন্টে চালু হওয়ায় পর্যটক বেড়েছে। তবে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ও শনিবারে ভ্রমণপিপাসুরা এখানে ছুটে আসে। উপভোগ করছেন সাগরের সৌন্দর্য, একই স্থান থেকে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য। সৈকত জুড়ে পর্যটকের ঢল। শামুক-ঝিনুকের দোকানসহ বিপনী বিতানগুলোতে রয়েছে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। তবে করোনা পরিস্থিতিতে গত দেড় বছর কুয়াকাটায় হোটেল ব্যবসায় মন্দা পরিস্থিতি ছিল। এসময় প্রত্যেকটি হোটেলের মালিদের লোকসান গুনতে হয়েছে। কর্য করে কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়েছে বলে একাধিক আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ি বলেছেন।
সৈকত লাগোয়া আচার ও ঝিনুক ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম সংগ্রাম জানান, বেশি পর্যটক আসায় তাদের বিক্রিও বেড়েছে। তবে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার পর্যটকের সংখ্যা বেশি থাকে। আবাসিক হোটেল পরিচালক জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, তাদের হোটেলে স্বাস্থ্য বিধি মেনেই রুম বুকি দেয়া হচ্ছে। কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মো.আবদুল খালেক
বলেন, অনেক পর্যটক আসায় পর্যটন পুলিশের কয়েকটি দল মাঠে কাজ করছে। পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মানা, মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করতে মাইকিং করা হচ্ছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
![]()