সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ১৪টি হত্যা, অগ্নিসংযোগ, চাঁদাবাজি, বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দ্রুত বিচার আইনের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রফিক সরকার বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন কেপিআই এরিয়া বঙ্গবন্ধু সেতু’র নিরাপত্তা প্রধান হিসেবে। ঢাকার সাথে উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক ও রেল যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম দেশের দীর্ঘতম গুরুত্বপূর্ণ সেতুর দায়িত্বে এমন একজনের দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!বঙ্গবন্ধু সেতু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা একাধিক কর্মকর্তা, সিরাজগঞ্জ সদর ও বঙ্গবন্ধু পশ্চিম থানা এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সায়দাবাদ ইউনিয়নের সারটিয়া গ্রামের এহসান সরকারের ছেলে রফিক সরকার। ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপি’র ছাত্র সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত রফিক সরকার গত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে ইউনিয়ন বিএনপি’র দায়িত্ব পান। বঙ্গবন্ধু সেতুর নিরাপত্তা কর্মী হিসেবেও কাজ করতে থাকেন তিনি।
আরও জানা যায়, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে বিরোধীদলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা রফিক সরকার সরকারি চাকরিও অব্যাহত রাখেন। বিগত সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে হত্যা, লুণ্ঠন, ট্রেনে অগ্নিসংযোগ, বিস্ফোরণসহ আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি নানা কাজে জড়িয়ে পড়েন রফিক সরকার। এই সময়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানা ও বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানায় তার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা দায়ের হয়।
হত্যা, বিশেষ ক্ষমতা আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ধারার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রফিক সরকার জেলও খেঁটেছেন একাধিকবার।
নিজের কাঁধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে স্বীকার করে রফিক সরকার বলেন, ‘আমি কোনদিন চাকরির শৃঙ্খলা পরিপন্থি কোনও কাজ করিনি। আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কিছু মামলা রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এ ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
সয়দাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রফিকের মতো একজন কীভাবে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে? আমরা তার দ্রুত অপসারণের দাবী জানাই।’
বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মোসাদ্দেক আলী বলেন, ‘রফিক সরকারের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তবে সে জামিনে আছেন। আদালতের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’
![]()