২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:২১
শিরোনাম:

বিমানবন্দর স্থাপিত হলে কুয়াকাটায় মুখরিত থাকবে দেশী-বিদেশী ভিআইপি পর্যটক

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি : প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লিলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। সমুদ্রের গর্জন, উত্তাল ঢেউ আর সূর্যোদয়-সূর্যাস্তে লোভনীয় দৃশ্য উপভোগ করতে বার বার ছুটে আসে পর্যটকরা। বিশেষ করে ছুটির দিনে পর্যটকদের ব্যাপক চাপ
থাকে। বিশ্বব্যাপী এর পরিচিতি থাকলেও নেই বিমানবন্দর। মূলত ১৯৯৮ সালে কুয়াকাটাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়। ধীরে ধীরে জনপ্রিয় স্থান হয়ে ওঠে। আর এখানে রয়েছে অসংখ্য আবাসিক হোটেল, খাবার হোটেল, প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

কুয়াকাটায় দেশী-বিদেশী ভিআইপি পর্যটকরা আসবে, স্থাপিত হবে বিমানবন্দর এমনটাই দাবী করেছেন পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। পর্যটন সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত। এই সমুদ্র সৈকতটি দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার লম্বা। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ
সৈকত একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের মত বিরল দৃশ্য দেখা যায়। সৈকতের কোল ঘেঁষে রয়েছে বিশাল বনাঞ্চল। পশ্চিম দিকে সুন্দর বনের পূর্বাংশ ফাতরার বন, লেবুর বন, নারিকেল বাগান, ঝাউবাগান, গঙ্গামতি ও কাউয়ার চরের সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এছাড়া সৈকতের কাছে রাখাইন পল্লী কেরানীপাড়ার।

সেখানে রয়েছে সীমা বৌদ্ধ বিহার ও একটি প্রাচীন কুপ। একটু দূরে মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ বিহারে রয়েছে উপমহাদেশের সবচেয়ে
বড় বৌদ্ধ মূর্তি। আর বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা এক অনন্য ভুবন চর বিজয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চেনা-অচেনা পাখির কলকাকলী ও বালিয়াড়িতে অগণিত লাল কাঁকড়ার নৃত্য যেন নয়নাভিরাম নীল দিগন্তবিস্তৃত অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি। এসব কিছু আগত পর্যটকদের মুগ্ধ করে তোলে। তবে বিমানবন্দর স্থাপিত হলে কুয়াকাটায় মুখরিত থাকবে দেশী-
বিদেশী ভিআইপি পর্যটক জানিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

পর্যটক জেসমিন আক্তার বলেন, কুয়াকাটায় বিমানে আসার সুযোগ থাকলে ভাল হতো। আকাশ পথে সৈকতে আসার আনন্দ উপভোগ করতে পারতাম। তবে এখানে বিমানবন্দর থাকলে কক্সবাজারের মতো সারা বছর বিদেশী পর্যটক থাকবে। কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন কুটুম’র সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে আধুনিক
পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করতে সরকার মাস্টারপ্লান প্রস্তুত করেছেন। মাস্টারপ্লানে রয়েছে বিমান বন্দর। কিন্তু দীর্ঘ বছরেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বিমান বন্দর হলে দেশী-বিদেশী ভিআইপি পর্যটক আসবে। আরো একধাপ এগিয়ে যাবে কুয়াকাটা।

আভিজাত হোটেল সিকদার রিসোর্ট এন্ড ভিলাসের জেনারেল ম্যানেজার মো.আল-আমিন খান উজ্জল বলেন, কুয়াকাটায় বিদেশী পর্যটকদের সেবা দেওয়ার মতো অনেকগুলো হোটেল আছে। কিন্তু বিমানবন্দর না থাকার কারণে দেশের বাহিরের পর্যটকরা খুব একটা আসছেন না। ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারি পুলিশ সুপার মো.আবদুল খালেক বলেন, সড়ক পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলেও আকাশ পথের ব্যবস্থা নেই। যার কারণে দেশের ভিআইপি ও বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা খুবই কম। কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র মো.আনোয়ার হাওলাদার বলেন, কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বিমান বন্দর খুবই জরুরী। বিমান বন্দর না থাকার কারণে বিদেশী পর্যটক আসছে না। বিদেশী পর্যটক আনতে হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে আকাশ পথের ব্যবস্থা করা অতীব জরূরী বলে দাবী করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করেন।

Loading