২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:২১
শিরোনাম:

হেলিকপ্টারে এলেন বর, তবে ফিরলেন শূন্য হাতে

বিয়ে করে বউ নিয়ে যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টারে উড়ে এসেছিলেন বর। কিন্তু বিধি বাম। শেষ পর্যন্ত বউ ছাড়াই ফিরতে হয়েছে তাকে। কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় বিয়ে বন্ধ করে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সেইসঙ্গে নেওয়া হয় মুচলেকাও। গতকাল শুক্রবার নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামে ঘটেছে এমন ঘটনা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

হেলিকপ্টারে আসা ওই বরের নাম শাহজালাল মিয়া (৩০)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাঞ্ছারামপুর গ্রামের আলেক মিয়ার ছেলে।

এলাকাবাসী ও পূর্বধলা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল মিয়ার সঙ্গে পূর্বধলার কান্দাপাড়া গ্রামের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর পারিবারিকভাবেই বিয়ে ঠিক হয়। বরের বাবা আলেক মিয়া দুবাই প্রবাসী। ছেলের বিয়ে উপলক্ষে তিনি সম্প্রতি দেশে আসেন। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। এজন্য শাহজালাল স্বজনদের নিয়ে হেলিকপ্টারে গিয়েছিলেন কান্দাপাড়ার কনের বাড়িতে।

বিয়ের আয়োজন চলাকালে একপর্যায়ে পূর্বধলা উপজেলা প্রশাসনের কাছে খবর আসে কান্দাপাড়ায় মহাধুমধামে বাল্যবিয়ের আয়োজন চলছে। ছুটে যায় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বিধি মোতাবেক কনের বিয়ের বয়স ১৮ বছর না হওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয় সেই বিয়ে। পণ্ড হয়ে যায় মহাধুমধামে শুরু হওয়া বিয়ের সব আয়োজনও। এর ফলে বিয়ে না করেই বউ ছাড়া চলে যেতে হয় বর শাহজালালকে।

জানতে চাইলে বর মো. শাহজালাল বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক। আমার কাছে সব ডকুমেন্ট আছে।’

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, জন্ম সনদ অনুযায়ী কনের জন্ম ২০০৫ সালে। তার এখনো ১৮ বছর হয়নি। তাই বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স জানান, বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বিধি অনুযায়ী কনের বিয়ের বয়স হয়নি। পরে দুই পক্ষের মুচলেকা নিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘তারা দাবি করেছে মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক। আমরা তার সত্যতা পাইনি।’ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিয়ের আয়োজন করবে–এ শর্তে মেয়ের মায়ের কাছ থেকে মুলচেকা নেওয়া হয় বলেও জানান পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

Loading