করোনাভাইরাস প্রতিরোধসেধক প্রথম ডোজ গণটিকা কর্মসূচি শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) শেষ হচ্ছে এমন খবরে সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীতে সকাল সাতটায় শহরের আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ টিকা নিতে আসা কেন্দ্রে কেন্দ্রে মানুষের ঢল নেমেছে। টিকা প্রত্যাশী অসংখ্য নারী-পুরুষ গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকার জন্য অপেক্ষা করছেন। কোনো ধরনের নিবন্ধন কিংবা কাগজপত্র ছাড়াই পাড়ামহল্লায় হাসপাতালের নির্ধারিত বুথে টিকা দেওয়া যাচ্ছে। তবে এসব টিকা কেন্দ্রে অব্যবস্থাপনার চিত্র বেশ লক্ষ্যণীয়।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডে বিভিন্ন অস্থায়ী টিকা কেন্দ্র ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। এছাড়াও হাসপাতালগুলোতে একদিনে এক কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ২৮ হাজার বুথে টিকা কার্যক্রম চলছে। এসব বুথে টিকা দেওয়ার কাজে যুক্ত রয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক মিলে মোট ১ লাখ ৪২ হাজারের অধিকজন। সিটি করপোরেশনের প্রতিটি অঞ্চলে ৩০ থেকে ৫০টি করে বুথে টিকা দেওয়া হয়েছে।
রাজধানী ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে নারী-পুরুষ আলাদা লাইনে টিকা নিতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আদাবর ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের টিকা কেন্দ্রের বাইরে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাদাগাদি করে টিকা প্রত্যাশীরা অপেক্ষা করছেন। টিকা কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করা ঝর্না দাস নামে এক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, সকাল থেকে মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছে। যারা আসবে তাদের টিকা দেওয়া হবে। টিকার জন্য অপেক্ষা করা মিলন বেগম নামে এক নারী জানান, সকাল সাড়ে সাতটায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি, টিকা পাইনি। তিনি বলেন, আজকের পরে শুনেছি প্রথম ডোজ আর দেবে না। ২৬ তারিখের পরে টাকা দিয়ে টিকা নিতে হবে শুনেছি । তাই গতকাল নিবন্ধন করেছি। আজকে সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে জানান, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে চলমান টিকা কর্মসূচির প্রথম ডোজ টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম ২৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। তিনি জানান, ২৬ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ‘একদিনে এক কোটি’ করোনা টিকা ক্যাম্পেইনের মধ্য দিয়ে প্রথম ডোজ টিকাদান সম্পন্ন হবে। এরপরে দ্বিতীয় ডোজ ও বুস্টার ডোজ প্রদানের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। যারা এখনও নেননি আজই নিকটস্থ কেন্দ্র থেকে ভ্যাক্সিন নিন, সুরক্ষিত থাকুন।
অন্যদিকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারির পরও প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া বন্ধ হবে না। দেশে করোনা টিকার নিবন্ধন শুরু হয় গত বছরের ২৭ জানুয়ারি। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। ১৮ বছর বয়সী যেকোনো মানুষ এখন টিকা নিতে পারছেন। দেশে এখন অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম, মডার্না ও ফাইজার— এই চার ধরনের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে শিশু হাসপাতাল ও ইনিষ্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক ডা.প্রবীর কুমার সরকার বলেন, শুক্রবার বন্ধের দিনেও একহাজার এবং শনিবার দুপুর তিনটে পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে ৪ হাজারের অধিক মানুষকে। শ্যামলী ২৫০ শয্যার টিবি ও অ্যাজমা হাসপাতালের সহকারি পরিচালক টিকা ফোকাল পারর্সন ডা. আয়শা আক্তার জানিয়েছেন ,শুক্রবার ছুটির দিনে ১১শত আর শনিবার দুপুর ২টায় পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয়েছে ৪হাজারের অধিক মানুষকে। তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রের ভিতরে যতো মানুষ থাকবে এবং আমাদের কাছে সংরক্ষিত টিক থাকা পর্যন্ত আজ তারা কাউকে টিকা ছাড়া ফিরিয়ে দিবেন না বলে জানিয়েছেন।
![]()