২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৩০
শিরোনাম:

প্রধানমন্ত্রী আমার মা, পরিবার নিয়ে সমস্যায় আছি : শরীফ

বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করে খবরে আসা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদ্য চাকরিচ্যুত উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন চাকরিতে পুনর্বহালে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মঙ্গলবার (১ মার্চ) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে একটি বিভাগীয় মামলার হাজিরা দিতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শরীফ উদ্দিন।

শরীফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। যে বিষয়ে একটি মিশন-ভিশন রয়েছে। সে মিশন-ভিশন বাস্তবায়ন করতে গিয়েই প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়েছি। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর, দুদকের সহকর্মী, মিডিয়া ও মানুষের দোয়ায় আমি গুম হতে রেহাই পেয়েছি।

প্রধানমন্ত্রীকে ‘মা’ সম্বোধন করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমার মা। মা আমি অসহায়। পরিবার ও বাচ্চা নিয়ে খুব সমস্যায় আছি। দুই সপ্তাহ ধরে ঘুমাতে পারছি না। আমাকে সুযোগ দেওয়া হোক। কমিশনের যত অভিযোগ রয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে পারব। সকল ডকুমেন্টস আমার কাছে রয়েছে। আমাকে সরাসরি অপসারণ করে দুদকের আসার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমি আসলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট হিসেবে আসতে পারব।

দুঃখজনক হলেও সত্যি আমি অপসারিত হওয়ার পরও বিভাগীয় মামলার হাজিরা দিচ্ছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার কাছে খুব বিব্রতকর পরিস্থিতি যে দুদকের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে হাজিরা দিতে এসেছি। আপনারা জানেন গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আমাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য আমি অপসারিত হওয়ার পরও বিভাগীয় মামলায় হাজিরা দিচ্ছি। এটা আইনের দৃষ্টিতে কতটুক সাম্য আমি বলতে পারব না। তবে এটা নিয়ে আমি বিব্রত। আমার বিরুদ্ধে তিনটি ডিপি চলমান রয়েছে। প্রথমটা হলো ব্যাংক হিসাব নো-ডেবিট সংক্রান্ত, দ্বিতীয়টা নথি হস্তান্তরে বিলম্ব কেন ও তৃতীয়টা হলো দেরিতে কর্মস্থলে যোগদান কেন?

আজকের বিভাগীয় মামলার বিষয়বস্তু হলো আমি নথি হস্তান্তরে দেরি করেছি কেন? যার তদন্তের দায়িত্বে আছেন উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান। আমি সশরীরে হাজির হয়ে, যাবতীয় প্রমাণ তার কাছে দিয়েছি। এ বিষয়ে আমি বলতে চাই, আমার কাছে ১৩০টি নথিপত্র ছিল। মামলাগুলো অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও হাই-সেনসিটিভ ছিল। ছয়টি আলমারিতে সেগুলো ছিল। তা আরেকজনকে বুঝিয়ে দেওয়া সময়সাপেক্ষ বিষয়। পটুয়াখালী থেকে আমাকে ফাইল বুঝিয়ে দিতে আসতে দেওয়া হয়নি। গত ২২ আগস্ট নির্দেশনা পাওয়ার পর আমি পাঁচ দিন ধরে নথিগুলো বুঝিয়ে দিই। যারা ফাইলগুলো বুঝে নিয়েছেন, তাদের জিজ্ঞেস করলে মূল ঘটনা জানতে পারবেন।

তিনি বলেন, আমার ঊর্ধ্বতনদের মিসগাইড করা হয়েছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি চাকরিবিধি অনুযায়ী কমিশন বরাবর আদেশ রিভিউ করার জন্য আবেদন করেছি। আশা করি, কমিশন আমার আবেদন গ্রহণ করবে এবং ন্যায়বিচার পাব।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আলোচিত এই কর্মকর্তাকে অপসারণ করে দুদক। এর আগে চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়েছিল।

Loading