২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:১৯
শিরোনাম:

নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নে চা শ্রমিককে ‘কুলি’ লেখায় শ্রমিক সন্তানদের ক্ষোভ

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রাজস্ব প্রশাসনের ৪টি গ্রেডে সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে চা শ্রমিককে ‘কুলি’ বলায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন চা শ্রমিকদের সন্তানেরা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

শুক্রবার ২২ জনকে নিয়োগের জন্য এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সাড়ে ৭ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী এতে অংশ নেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অদিশাখা-১ (মাঠ প্রশাসন) নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী এক চা শ্রমিক সন্তান বলেন, পরীক্ষা দিতে গিয়ে দেখি প্রশ্নপত্রে ইংরেজিতে অনুবাদ করতে বলা হয়েছে, শ্রীমঙ্গলকে চায়ের রাজধানী বলা হয়। শ্রীমঙ্গলে ৯২টি চা বাগান রয়েছে। শ্রীমঙ্গলের চা খুব উপাদেয়। কুলিরা হাত দিয়ে চা পাতা সংগ্রহ করে। প্রক্রিয়াজাত চা পাতা থেকে চা উৎপন্ন হয়। প্রশ্নপত্রে চা শ্রমিকদের কুলি বলায় মন খারাপ হয়েছে।

সার্টিফিকেট সহকারী পদের একজন পরীক্ষার্থী বলেন, চা বাগানে কাজের অভাব। অনেক কষ্ট করে দৈনিক ১২০ টাকা মজুরির চা শ্রমিক বাবা-মা পড়ালেখা করিয়েছেন। বড় কষ্টে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম এই অভাবের গেড়াকলে। ভালো মন নিয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশ্নপত্র দেখে মনটাই খারাপ হয়ে গেল।

চা শ্রমিকের সন্তান আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এমন শব্দের ব্যবহার দেখে চোখে জল চলে আসলো। ৪৫ মিনিট চুপ করে বসেছিলাম। কিন্তু মা-বাবার অভাবের চেহারাটা বার বার চোখে ভেসে আসে। তাই কষ্ট হলেও পরীক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করলাম মাত্র। আমাদের আর কত অবহেলা সইতে হবে জানি না।

ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী পদের আরেক পরীক্ষার্থী প্রশ্নপত্রে এ ধরনের ‘অপমানজনক ও বিদ্বেষপূর্ণ’ শব্দ ব্যবহারের নিন্দা জানিয়ে বলেন, আমি চাই প্রশ্ন প্রণয়নকারী ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার বিচার হোক।’ তার ভাষ্য, ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে চা বাগান এই স্বাধীন বাংলার শিল্পের চাকাকে সচল রেখেছে। আর এই শিল্পে কাজ করছে লক্ষাধিক শ্রমিক। শ্রমিকরা শ্রমিক হয়, সে যেই শিল্পেরই হোক। কিন্তু তাদের কুলি বলার অধিকার কারও নেই।’

উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের অন্যতম উপদেষ্টা রাম ভজন কৈরী এ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নে আপত্তির শব্দ ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানান। একটি নিয়োগ পরীক্ষায় ভুল তথ্য তারপর একটি পরিশ্রমী জাতিগোষ্ঠীকে হেয় করে কিভাবে কুলি আখ্যায়িত করা হয়েছে তা দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জবাব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারি শ্রম আইনে চা বাগামের কর্মীদের চা শ্রমিক সম্বোধন করা হয়েছে। আর শ্রম আইনের পরিপন্থী শব্দ কিভাবে নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হলো ? এর সুস্পষ্ট জবাব দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তিনি। অন্যতায় চা শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন শুরু হবে।

মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এখনো প্রশ্নপত্র দেখিনি। শুধু পরীক্ষার্থীদের অ্যাকোমোডেশনের ব্যবস্থা করেছি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধিনে নির্বাচন বোর্ড এই পরীক্ষা নিয়েছে। সম্পাদনা : খালিদ আহিমেদ

Loading