৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:০১
শিরোনাম:

দুদকে অভিযোগ- চীন থেকে পুরনো গাড়ি এনে নতুন বলে প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিদক : শক্তিশালী অসাধু চক্র ভয়ানক অপতৎপরতার মাধ্যমে দেশীয় ব্র্যান্ডের গাড়ি বাংলা কারের নাম ব্যবহার করে নিম্নমানের গাড়ি বাজারজাত করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পাচার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা চীনে ব্যবহৃত পুরনো গাড়ি নতুন বলে বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা হওয়ার পর দুদক সেটা অনুসন্ধানের জন্য আমলে নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দা জনৈক হারুন অর রশীদ দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলেন, চীনের ডংফেং, ইন্দোনেশিয়ার ডিএফএসকে গ্লোরী, জাপানের ইসুজুসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চুক্তি করে যন্ত্রাংশ আমদানীর মাধ্যমে বাংলা কারস উৎপাদন করছে হোসেন গ্রুপ নামে একটি পুরনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তারা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অনুমতি নিয়ে গাড়ি উৎপাদন ও সংযোজন করছে। ব্যাপক বিজ্ঞাপনসহ নানামুখী প্রচারণার কারনে বাংলা কারস সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দেশি-বিদেশি অনেক গণমাধ্যম বাংলা কার্স নিয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে দ্রুতই বাংলা কারস ব্র্যান্ডের প্রসারও হয়েছে অনেক। এই সুযোগে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী বাংলা কার্সের নাম ও লোগো ব্যবহার করে চীন থেকে নিম্নমানের গাড়ি এনে বাজারজাত করছে। এতে জনমনে গাড়ির ব্র্যান্ড সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইন্দোনেশিয়ার ডিএফএসকে ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি চায়না থেকে নিম্নমানের গাড়ি এনে বাংলা কারস নামে বাজারে বিক্রি করছে। চক্রের অন্যতম হচ্ছেন জনৈক মো: মহসিন। তিনি ২২২ তেজগাঁও গুলশান লিঙ্ক রোডে মা এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে নিম্নমানের গাড়ি বিক্রি করছেন। তার কর্পোরেট অফিসের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ঢাকার পশ্চিমপান্থপথে।

মহসিন সম্পর্কে অভিযোগে বলা হয়, তিনি জামায়াতে ইসলামী মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া নেতা ও যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। মীর কাসেম আলীর ক্যাশিয়ার মহসিন ইসলামী কো-অপারেটিভ ব্যাংকের শত কোটি টাকা হংকং, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আছে ঢাকার সিএমএম কোর্টে ৩টি হত্যা মামলা। ‘জুয়েল’ নামে এক ব্যক্তি পরিচয় গোপন করে মহসিনের হাজিরা দেন। মো. মহসিন ইসলামিক ফার্মেসী নামে একটি ফার্মেসীর মাধ্যমে কালোটাকা সাদা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি’র (বিআরটিএ) কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে লিয়া কার এবং ফরচুনা গ্লোবাল নামে প্রতিষ্ঠানকে ডিএফএসকে ব্র্যান্ডের গাড়ি সংযোজনের অনুমতি দিয়েছে। যা বাংলা কারস নামে বাজারে ছাড়া হবে বলে জানা গেছে। যা কোনভাবেই আইন সম্মমত নয়। বাংলাদেশে প্রগতি ইন্ড্রাস্ট্রিজ মিৎসুবিসি স্পোর্টর্স এসইউভি অ্যাসেমব্লিং করে। প্রগতি ছাড়া অন্য কারও মাধ্যমে ওই গাড়ি উৎপাদন সম্পুর্ণ অবৈধ ও বেআইনী। একইভাবে লিয়া কার বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান বাংলা কারস উৎপাদন করলে সেটাও হবে বেআইনী। এতে নকল প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। যা দেশের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং সাধারণ মানুষ প্রতারিত হবে। অসাধু চক্র বিপুল পরিমান অর্থ মানি লন্ডারিং মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার করবে বলে আশঙ্কাও রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদিক বলেন, অভিযোগে জমা হয়েছে। সেটা অনুসন্ধান করা হবে কিনা কমিশন সিদ্ধান্ত নিবে।

Loading