নগরভবনে আজ এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম
রাজধানীর ৮০ ভাগ পয়ঃবর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। তাই বাড়ি নির্মাণে নকশা অনুমোদন পেতে হলে প্রত্যেক বাসা-বাড়িতে সেপটিক ট্যাংকের ব্যবস্থা রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। অর্থাৎ আইন ভেঙে সেপটিক ট্যাংক বাদ দিয়ে বাড়ি নির্মাণ ও বসবাসের অনুমতি না দিতে রাজধানী উন্নয়ন করপোরেশনকে (রাজউক) নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
এছাড়া যেসব ভবন মালিক সরাসরি খাল বা ড্রেনে বর্জ্য ফেলছেন, তাদের বিরুদ্ধে শিগরিরই কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন উত্তর ঢাকার মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। গুলশানের নগরভবনে আজ এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তারা।
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানী। এখানকার অন্তত ৯০ ভাগ ভবনের পয়ঃবর্জ্য সরাসরি লেকে মিশেছে। রাজধানীর সব এলাকার অবস্থাই একই রকম। বারবার তাগিদ দিলেও সেপটিক ট্যাংক বা সোকওয়েল তৈরি করেছেন না ভবন মালিকরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, রাজধানীর ৯৯ ভাগ অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে নিয়ম অমান্য করে। তাই ভবনের অনুমতি দেবার আগে রাজউককে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি বলেন, একসময় সরকারের পরিকল্পনা ছিল দাশেরকান্দির স্যুয়ারেজ প্ল্যান্টের সঙ্গে পুরো ঢাকা শহরের পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থার সংযোগ তৈরি করা, এখন যেটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে সরকারের বিকল্প পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এলজিআরডিমন্ত্রী বলেন ”যেমন প্রত্যেকটা বাড়িতে একটি করে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকবে। সেখান থেকে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ হয়ে যেটা অবশিষ্ট থাকবে, সেটা নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশন থেকে ময়লার গাড়ি সেটা ট্রিটমেন্ট প্লান্টে দিয়ে আসবে।”
পয়ঃবর্জ্যের কারণে হুমকির মুখে রাজধানীর জীববৈচিত্র। তাই এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য এক কর্মশালার আয়োজন করে ইউনিসেফ এবং ডিএনসিসি। সেখানে পয়ঃবর্জ্যে শোধনের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শিত হয়।
পরে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম, খাল কিংবা ড্রেনে পয়ঃবর্জ্যের লাইন সরিয়ে নিতে ভবন মালিকদের আহ্বান জানান। অন্যথায় কঠোর হবার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
![]()