২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:৪১
শিরোনাম:

প্রেমের ফাঁদে ফেলে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার তিন

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে দিনের পর দিন দলবেধে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর মা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

গ্রেপ্তাররা হলেন, প্রধান অভিযুক্ত মাসুম, তার সহযোগী গোপাল মিস্ত্রী ও শাকিল।পুলিশ জানায়, প্রথমে একটি ফসলের ক্ষেতে ও পরে হাসপাতালে নিয়ে ধর্ষণের পর বিয়ের প্রলোভনে গত ১১ দিন ধরে ওই কিশোরীকে বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। সোমবার (২১ মার্চ) রাতে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে। ভুক্তভোগী নির্যাতনের কথা পুলিশ ও অভিভাবককে জানালে অভিযুক্ত ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ মার্চ) কিশোরীর মা বাদি হয়ে মাসুমসহ ওই তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসীম জানান, কিশোরীটি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে পরিবারের সঙ্গে পৌর শহরের মাদ্রাসা সড়কে একটি ভাড়া বাসায় থাকে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ওই কিশোরী কলাপাড়া হাসপাতালে করোনার টিকা দিতে গেলে মাসুমের সাথে পরিচয় হয়। পেশায় মাসুম মোটরসাইকেল চালক হলেও নিজেকে হাসপাতালের কর্মচারী বলে পরিচয় দেয়। এক পর্যায়ে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত ৮ মার্চ বিকালে কিশোরীকে মোটরসাইকেলে নিয়ে যায় মাসুম। রাত ৯টার দিকে মাসুমের সহযোগী গোপালের সহায়তায় ইটবাড়িয়া গ্রামের একটি বাড়ির ফসলের ক্ষেতে নিয়ে মাসুম ও শাকিল তাকে ধর্ষণ করে।

এরপর তাকে বাসায় না পৌঁছে দিয়ে রাত ১১টার দিকে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডের ২০৬ নং কক্ষে মাসুমের এক পরিচিত রোগীর কক্ষে নিয়ে যায়। সবার অগোচরে ওই রাতে আবার কিশোরীকে ধর্ষণ করে মাসুম।

পরদিন সকালে কিশোরীকে ওই কক্ষে রেখেই মাসুম চলে যায়। যাওয়ার সময় এ ঘটনা কাউকে বলতে নিষেধ করে।

এদিকে মেয়েকে না পেয়ে ৯ মার্চ সকালে হাসপাতালে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করেন মা। লোকলজ্জায় ঘটনাটি চেপে যান কিশোরীটির পরিবার।

কিন্তু ১১ মার্চ দুপুরে কৌশলে কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভনে নিয়ে যায় মাসুম। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পায়নি।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ ১১দিন মেয়েকে না পেয়ে গত সোমবার রাতে বিষয়টি থানায় জানান কিশোরীর মা। রাতেই পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে পৌর শহরের রহমতপুর থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মাসুম ও শাকিল কিশোরীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও জানান, কিশোরীর মায়ের মামলার প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার তিনজনকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে হাসপাতালে প্রসূতি ওয়ার্ডে নিয়ে বহিরাগত যুবক এক কিশোরীকে রাতভর ধর্ষণ করার বিষয়টি মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের চিকিৎসকসহ কর্মচারীরা পুলিশের মাধ্যমে জানার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়। কে, কিভাবে ওই মাসুমকে হাসপাতালে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে এ বিষয়টি কেউই অবগত না বলে জানান কর্তব্যরতরা। এমনকি ক্যামেরার সামনে এ বিষয়ে কেউ কথা বলতেও অপারগতা প্রকাশ করে।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, পুলিশ তাদের এ বিষয়টি জানিয়েছে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

Loading