২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:৪২
শিরোনাম:

রংপুর অঞ্চলে ডায়রিয়া কলেরার প্রাদুর্ভাব

মোঃ অসীম চৌধুরী, বিশেষ প্রতিবেদন, রংপুর ব্যুরো :  রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখানে রংপুর মহানগর ও এর আশপাশের জেলার রোগী আসেন। রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় হিমশিম খাচ্ছেন কতৃপক্ষ। হয়তো রোগী আরও বাড়বে।আগের বছর গুলোয় মধ্য এপ্রিলে এমন চিত্র দেখা যেত, এ সময়টাতে রুগীর অনেক চাহিদা হয়ে থাকে। এবার আগেভাগেই সেটা শুরু হয়েছে। স্মরণকালের মধ্যে ২০১৮-তে বেশ বেড়েছিল ডায়রিয়া রোগী। তখন প্রতিদিন গড়ে তিন’শ  রোগী আসত চিকিৎসা নিতে। সেবার এক দিনে সর্বোচ্চ এসেছিল ৩২৮ জন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

প্রতিদিন গড়ে চিকিৎসার জন্য আসছে দুই শতাধিক রোগী। অধিক সংখ্যক রোগী আসায় হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।সময়ের তফাতের সঙ্গে সঙ্গে রোগীর বয়স এবং রোগের ধরনেও তফাত লক্ষ করা যাচ্ছে।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী সম্পা আক্তার ও জাহিদ হোসেন বলেন, গরমে হঠাৎ পেটে ব্যথা ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। এক দিন হলো আছেন হাসপাতালে। পরিবারের আরও একজনের দেখা দিয়েছে।

ঠাকুরগাঁও’য়ের মাসুদ পারভেজ (৩১) চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দিনাজপুরে তিনি জানালেন, ”দিনত গরম রাইতত ঠান্ডা, দুইদিন থাকি প্যাট(পেট) টা ভাটারভুটুর(শব্দ) করিল।এ্যাল্যা(এখন) প্যাট খারাপ করছে।কাইল রাইতোত(রাত) থাকি এটে আছুং(আছি)।”

রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ জেলায় ডায়রিয়া ও কলেরার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে।

ডাঃ মোঃ মন্জুর -এ – মুর্শেদ সিভিল সার্জন কুড়িগ্রাম বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেছে। জেলাসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে কথা হয় নীলফামারী সিভিল সার্জন ডা: মো: জাহাঙ্গীর কবিরের সঙ্গে তিনি জানান, ‘ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলো ডায়রিয়া চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সচেতনতা তৈরিতে স্বাস্থ্য কর্মীরাও কাজ করছে।’

সহকারী পরিচালক (স্বাস্থ্য) রংপুর বিভাগ ডাঃ জওয়াহেরুল আনাম সিদ্দিকী বলেছেন, ‘ডায়রিয়া উপশমের পদ্ধতি আমাদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু তাতে রোগ নিরাময় হলেও প্রতিরোধ হবে না।’ তাই তিনি সবাইকে পরামর্শ দিচ্ছেন ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ডায়রিয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে পানি ফুটিয়ে খেতে হবে।’

 

Loading