বিরোধী রাজনৈতিক দলকে উচ্ছেদ করতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রবল চাপে থাকা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!আজ রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘অবৈধ সরকার আন্তর্জাতিকভাবে প্রবল চাপের মুখে পড়ে এখন দেশের বিরোধী দলকে উচ্ছেদ করার জন্য মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। দুর্নীতিগ্রস্ত এই অবৈধ সরকার দেশকে এমন এক খাদের প্রান্তে নিয়ে গেছে সেখান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই দেখে বিএনপি নেতাকর্মীদের এই রমজান মাসেও মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারের হিড়িক শুরু করেছে।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজ রোববার চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিককে মিথ্যা মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভুঁইয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ গাফ্ফার এবং ঢাকা মহানগর কোতোয়ালি থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস সিকদারকে গতরাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহাগ নুরের ওপর ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেছে। সে এখন হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন। হামলাকারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি করছি। তার আশু সুস্থতা কামনা করছি।’
রিজভী বলেন, ‘হিংসা, সন্ত্রাসবাদ, বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন, নিজেদের স্বার্থসর্বস্বতাসহ হরেক কিসিমের অনাচারে দেশকে ভরিয়ে তুলেছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, উদার মনোভাব, সকলের একত্রিকরণ, বিনা বাধায় নিজের পছন্দমতো বিশ্বাস নিয়ে চলার অধিকার হরণ করেছে এই আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী। সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে হিটলারের গ্যাস চেম্বারের ন্যায় বিষাক্ত চেম্বারে ঢুকিয়ে রাখতেই যেন তারা সকল শক্তি প্রয়োগ করছে। আওয়ামী সরকারের সহিংস উন্মত্ততা তাদের শাসনের ছত্রে ছত্রে উপস্থিতি দৃশ্যমান। এরা গণতন্ত্রের চিরকালীন পথরেখার মধ্যে গভীর গর্ত সৃষ্টি করে এক ভয়ংকর স্বৈরাচারের বৃত্ত তৈরি করেছে। এই স্বৈরাচারের বৃত্ত এখন সর্বনাশা নাৎসীবাদে আত্মপ্রকাশ করেছে।’
বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা মনে করছেন বিএনপির নিরপরাধ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে নিজের ক্ষমতা কণ্টকমুক্ত রাখা যাবে। কিন্তু তার এই ধারণা অমূলক। চারিদিকে দুর্ভিক্ষের পদধ্বণী, দেশের সম্পদ লুন্ঠনের পথ খুলে দেওয়া, বিনা টেন্ডারে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পকেটে জমা করা, ছাত্রলীগ-যুবলীগের মানুষ হত্যায় আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর দারুণ উল্লসিত হওয়া, দুর্নীতি ও হানাহানিতে ক্লেদাক্ত সমাজ নির্মাণ, পানি-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চরম অস্থিরতা ও অরাজকতা, এর সঙ্গে চলছে গ্রাহকদের পকেট কাটার মহৌৎসব। কিন্তু এসব অপকর্ম করে শেখ হাসিনা তার সাধের ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন না। গণতন্ত্রকে হত্যা করে আর ক্ষমতায় থাকা যাবে না। চারদিকে সরকার পতনের আওয়াজ উঠছে। বিশ্ব বিবেক ও জনগণকে ধোকা দিয়ে ও জুলুম নির্যাতন চালিয়ে ক্ষমতা এক্সটেনশনের রাস্তা বন্ধ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পূণঃরুদ্ধার হবে এবং দেশে শক্তিশালী একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’
![]()