২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:৫৩
শিরোনাম:

নিউমার্কেটের ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে দেশে কোনো সরকার নেই : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী-শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে দেশে কোনো সরকার নেই। এই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ সরকারে পরিণত হয়েছে এবং তারা এই রাষ্ট্রকেও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

আজ বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের নবগঠিত আংশিক কমিটির নেতাদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের চোখের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংঘর্ষ হয়েছে দুটি পক্ষের মধ্যে। সেটাকে তারা (সরকার) বন্ধ করার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উপরন্তু তাদের কর্মকর্তারা বক্তব্য দিচ্ছেন যে তারা কোনো পক্ষেই ছিলেন না, নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন।

নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে তারা এই সংঘর্ষকে আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়ায় সহযোগিতা করেছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাই এর জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী। ওই ঘটনায় যে দুজন মারা গেছেন -এই হত্যার জন্য তারাই দায়ী।’

বুধবার ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির বৈঠক সম্পর্কে জার্মান রাষ্ট্রদূত আখিম ট্র্যোস্টার যে বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রতিক্রিয়াও জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘উনি (রাষ্ট্রদূত) সঠিক বলেননি। আমাদের যিনি বক্তব্য রেখেছিলেন সেই মিটিংয়ের পরে তিনি (আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী) কখনোই একথা বলেননি, জার্মান রাষ্ট্রদূতকে কোট করে তিনি কোনো কথা বলেননি। আপনারাও সেখানে ছিলেন, আপনারা সবই জানেন। তিনি (আমির খসরু) সামগ্রিকভাবে ইনজেনারেল যে কথাটা বলেছেন, সেটাই উনি (জার্মান রাষ্ট্রদূত) মিস কোট করেছেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, এই দেশে তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, দেশকে তারা দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের যে লক্ষ্যগুলো ছিলো সেগুলো ধুলিসাৎ করে দিয়ে তারা আজকে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হয় যে তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে একটি দেশকে পরিচালনা করতে; দেশকে একটা সুষ্ঠু জায়গা নিয়ে আসতে; সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে।

তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চরম দুযোর্গের দিকে গেছে এবং ভয়াবহ এক দুর্নীতির করাল গ্রাসে এদেশকে তারা পতিত করেছে। এসব কারণে দেশের মানুষ দাবি তুলে অবিলম্বে এই মুহূর্তে সরকারের পদত্যাগ ঘটানো উচিত। নিরপেক্ষ সরকারের তত্ত্বাবধায়নে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করা এবং নিরপেক্ষ পার্লামেন্ট তৈরি করা- এটাই এখন সবচেয়ে বড় দাবি এবং আন্দোলন।

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সাবেক ছাত্রদল নেতা আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, আসাদুজ্জামান রিপন, ফজলুল হক মিলন, আজিজুল বারী হেলাল, হাবিবুর রশীদ হাবিব, আকরামুল হাসান, ছাত্র দলের সদ্য বিদায়ী নেতৃত্ব ফজলুর রহমান খোকন ও ইকবাল হোসেন শ্যামল ছাড়াও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম ও আমিনুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।a

Loading