২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৩:৫৯
শিরোনাম:

জিনের বাদশার ঘরে স্কুলছাত্রী, সালিস ডেকে পেটালেন ইউপি সদস্য

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে গ্রাম্য সালিসে কথিত জিনের বাদশা ও এক নারীকে লাঠিপেটা করার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় আজ রোববার সকালে পুলিশ তরিকুল ইসলাম নামের এক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এর আগে গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচী ইউনিয়নের গনকপাড়া গ্রামের বিশু প্রামানিকের বাড়িকে সালিসের আয়োজন করা হয়।

জানা যায়, সারিয়াকান্দি উপজেলার ধাপ গ্রামের কবিরাজ আব্দুল খালেক নিজেকে জিনের বাদশা পরিচয় দেন। তিনি পাশের মালোপাড়া গ্রামের এক নারীকে ধর্ম মেয়ে বানিয়ে সেখানে যাতায়াত করেন। আব্দুল খালেক জিনের মাধ্যমে তার ধর্ম মেয়ের বাড়িতে দালান ঘর তুলে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শুক্রবার রাতে সেখানে যান। এরপর আলাদা একটি ঘরে তিনি জিন হাজিরের কথা বলে অবস্থান করেন এবং সেখানে সবার প্রবেশ নিষেধ করে দেন।

ভোরের দিকে জিনের বাদশা আব্দুল খালেক তার ধর্ম মেয়ের স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে সেই ঘরে পাঠাতে বলেন। স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে ঘরে অবস্থান করার বিষয়টি জানতে পেরে পরের দিন শনিবার সকাল ৭টার দিকে ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম ওই বাড়িতে হাজির হয়ে কবিরাজকে আটক করেন। এরপর কবিরাজ ও তার তার ধর্ম মেয়েকে গ্রামের বিশু প্রামানিকের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সকাল ১০টার দিকে গ্রাম্য সালিস হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে সেখানে কয়েক’শ নারী-পুরুষ জড়ো হন।

সালিসে জিনের বাদশা আব্দুল খালেককে লাঠিপেটা, কান ধরে ওঠবস, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জিনের বাদশার ধর্ম মেয়েকে লাঠিপেটা করার সিদ্ধান্ত দেন ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউপি সদস্য হুমায়ন কবির আব্দুল খালেককে লাঠি পেটা করেন এবং তাকে বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ায় তার ধর্ম মেয়েকে লাঠিপেটা করেন ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম।

এদিকে, সালিসে নারীকে লাঠিপেটা করার একটি ভিডিও শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ রোববার সকালে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য তরিকুলকে গ্রেপ্তার করে। অপর ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবীর পলাতক রয়েছেন।

সারিয়াকান্দি থানার উপপুলিশ পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ফেসবুকে ভিডিওটি ভাইরাল হলে ঘটনাটি আমাদের নজরে আসে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম, রুবি বেগম ও তার মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সারিয়াকান্দি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।’

সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে এ বিষয়ে ১৪ জনকে আসামি করে মামলা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তরিকুল ইসলামকে বগুড়া জেলা আদালতে প্রেরণ করা হবে।’

Loading