বি এম আলাউদ্দীন আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনি উপজেলার মানিকখালী খোলপেটুয়া ব্রিজ টু গোয়ালডাঙ্গা ভায়া বড়দল কপোতাক্ষ নদীর ব্রিজ পর্যন্ত ১০ কিঃ মিঃ মেইন সড়কের বেহাল দশায় জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন, ট্রাক, পিকআপসহ মালবাহী গাড়ি চলাচল করে থাকে। মাঝেমধ্যে যাত্রীবাহি বাস চলাচল করে।
বিভিন্ন যানবাহনে ও মালামাল পরিবহনে অসংখ্য ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান। সাতক্ষীরা, ভোমরা, শ্যামনগর থেকে পাইকগাছা, কয়রা ও খুলনায় এবং আশাশুনির দক্ষিণ অঞ্চল গোয়ালডাঙ্গা বাজার থেকে খাজরা, আনুলিয়া, প্রতাপনগর যাতায়াত করে থাকে মানুষ। সড়কের অসংখ্য স্থানে বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তা দিয়ে যখন গাড়ি চলাচল করে তখন ধুলোয় চারিদিকে অন্ধকার দেখা যায় আবার একটু বৃষ্টি নামলেই গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই বছর যাবৎ বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হলেও যথাযথ সংস্কার কাজ না করায় ভোগান্তির অবসান ঘটেনি। সড়কের জামাল নগর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার গাজীর বাড়ির সামনে, গোয়ালডাঙ্গা বাজারের মধ্যস্থলে, বাজারের পূর্ব পার্শ্ববর্তী স’মিলের সামনে, সামাদ গাজীর বাড়ির সামনে, ফকরাবাদ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোজাম সরদারের বাড়ির সামনে থেকে পল্লী বিদ্যুতের পাওয়ার হাউজ এবং ফকরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে।
এছাড়া বুড়িয়া গ্রামীণ ব্যাংক, কমিউনিটি ক্লিনিক ও আনিস গাজীর দোকানের সামনে, বড়দল কলেজিয়েট স্কুলের সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেছে। এসব স্থানে নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বড়দল ইউপি’র চেয়রম্যান জগদীশ চন্দ্র সানা জানান, সাতক্ষীরা জেলা এবং খুলনা জেলার দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের এটি একমাত্র সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক মেরামত না হওয়ায় মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে সড়কটি মেরামতের জন্য আমি একটি অভিযোগ করেছিলাম তারই পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক ও জনপথ দায়সারা মত কয়েকটি জায়গায় কাজ শুরু করেছে। তিনি সড়কটি পুনঃসংস্কার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান। গোয়ালডাঙ্গা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিনয় কৃষ্ণ মিস্ত্রি জানান, প্রতিদিন খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝাউডাঙ্গা, পাটকেলঘাটা, তালা, কপিলমুনি, ভোমরা, নলতা থেকে চাউল ও ধান বোঝাই ট্রাক সহ মুদিখানা ও কাঁচামাল নিয়ে বাজারে বিক্রয় করে থাকে অনেক ব্যবসায়ী।
রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় পরিবহন ঢুকতে চায় না। যার জন্য পরিবহন অনেক খরচ দিয়ে আনতে হয়। আর খরচ বেড়ে যাওয়ায় মালের মূল্য বেড়ে যায়। এতে খরিদ্দারদের মন সন্তুষ্ট করা যায় না। এলাকার সচেতন মহলসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ জানান, রাস্তাটি সাতক্ষীরা ও খুলনা দুই জেলাসহ সুন্দরবন যাতায়াত করে থাকে মানুষ। এছাড়া প্রতিবছর বর্ষাকালে গাড়ি চলাচলের সময় গর্তের ভিতর গাড়ির চাকা পরলে কাদা পানি ছিটকে জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায় পথচারীদের। রাস্তার দুরাবস্থার কারনে খুবই অসুবিধায় পড়তে হয়। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল ও পথচারীরা।