২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:০৯
শিরোনাম:

কিশোরকে গাছের সঙ্গে শিকলে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ৩

পটুয়াখালীর গলাচিপায় চুরির অপবাদ দিয়ে মুন্না (১৬) নামের এক কিশোরকে গাছের সঙ্গে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এর আগে ওই ঘটনায় মুন্নার মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ভুক্তভোগী কিশোরের চাচি মমতাজ, চাচাতো বোন তানিয়া এবং প্রতিবেশী শামীম।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের শাহাজাহন কমান্ডারের ছেলে মুন্নাকে ৮৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে গত ৯ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত আটকে রেখে নির্যাতন করে চাচি, চাচাতো বোন ও তার ভগ্নিপতি। টানা তিনদিন দফায় দফায় মারধরের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে ওই কিশোর। ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে তানিয়া, মমতাজ, শামীমকে গতকাল শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।

এদিকে, ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোর মুন্নাকে একটি গাছের সঙ্গে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। বোয়ালিয়া এলাকার হযরত আলী নামের এক ব্যক্তি তাকে মধ্য যুগীয় কায়দায় মারধর করছেন। এ সময় আশপাশের লোকজন দাঁড়িয়ে বিষয়টি দেখছেন। মারধরে কিশোরের শরীরে রক্তাক্ত জখম হতেও দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে মুন্নার মা হাসিনা বেগম সাংবাদিকদের জানান, ৮৫ হাজার টাকা চুরির অপবাদে মুন্নাকে ধরে নিয়ে গেছে। এ সংবাদ পেয়ে তিনি ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছেন।

তিনি আরও জানান, হযরত আলী, ফেরদৌস, মমতাজ এবং তানিয়া দফায় দফায় মুন্নাকে অমানবিক নির্যাতন করেছে। এখন তার ছেলেকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন হাসিনা বেগম।

এ বিষয়ে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর শওকত আনোয়ার জানান, নির্যাতিত কিশোরের মা হাসিনা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুন্নাকে উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

Loading