২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:৫৪
শিরোনাম:

সয়াবিন শরীরের জন্য ক্ষতিকর: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে যখন সয়াবিন তেলের লিটার প্রায় ২০০ টাকা, তখন এই পণ্যটি কম খাওয়ার প্রতি উৎসাহ দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বললেন, সয়াবিন তেল শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এর বিকল্প হিসেবে রাইসব্র্যান তেল ভালো।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বুধবার সচিবালয়ে দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা-সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির দ্বিতীয় সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের একথা বলেন।

সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে রাইসব্র্যান ও সরিষা উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন রাইসব্র্যান ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন উৎপাদন হয়। এটিকে সাত লাখ টনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। সেটি করতে পারলে মোট চাহিদার ২৫ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে। তা ছাড়া সয়াবিনের চেয়ে রাইস ব্র্যান ভালো। সয়াবিন তেল শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

এসময় মন্ত্রী জানান, ভোজ্যতেল পাম ও সয়াবিনের পর্যাপ্ত যোগান আছে। এর দাম আর বাড়বে না। বলেন, ‘ভোজ্যতেলের বাজারে সমস্যা হবে না। এটা বাজারে চাহিদা অনুযায়ী আছে। গত ৫ মে তেলের যে দাম ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল, তখন ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন, সাপ্লাই ঠিক আছে। কিন্তু মাঝখানে সেটা ঠিক ছিল না, তবে এখন সাপ্লাই ঠিক হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়ছে।’

ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করে দিলেও দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে গম আমদানির ভারত থেকে ৬৪ শতাংশ আসে। ভারত গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা বাংলাদেশের জন্য পুরোপুরি প্রযোজ্য হবে না। এ মুহূর্তে দেশে গমের যে মজুত, তাতে ভয়ের কিছু নেই।

নিত্যপণ্যের দাম কবে নাগাদ মানুষের নাগালে আসবে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই, এটির উত্তর জানতে হলে আমাকে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলে যেতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম না কমা পর্যন্ত আমরা কিছুই করতে পারব না। কলকাতায় খবর নিন, সেখানে কত দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। মানুষকে বৈশ্বিক অবস্থা জানাতে হবে।

ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে দুই আড়াই বছর আমদানি বন্ধ ছিল। এখন স্বাভাবিক হওয়ায় প্রচুর ক্যাপিটাল মেশিনারিজের ওপর চাপ পড়েছে। যার ফলে দুই বছরের চাপ একবারে পড়েছে, সেই প্রভাব পড়েছে। জ্বালানিতে তেলের দাম বেড়েছে, সেটার প্রভাব পড়েছে। সবকিছু মিলে প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি দামও বেড়েছে।

বৈদেশিক রিজার্ভের ওপর চাপ পড়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত দুই বছর আমদানি-রপ্তানি কম ছিল। ফলে রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছিল। এখন যখন চাপ পড়েছে তখন রিজার্ভ কমে ৪০ বা ৪১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যেটা বেড়েছিলো সেটা বিশেষ কারণে। এটা নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের দেশে একটা প্রবণতা রয়েছে, কোনো কিছুকে বেশি করে দেখানো হয়। এখন মনে হচ্ছে রিজার্ভ শেষ হয়ে গেলো। যেমন পাশের শ্রীলঙ্কায় বিপদ তাই বলে কি আমাদের দেশেও বিপদ? এটা হতে পারে না।

আমাদের দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ অনেক শক্তিশালী জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা তো শ্রীলঙ্কাকে প্রয়োজনে সাহায্য দিয়েছি। কোনো না কোনো কারণে কেউ না কেউ কোনো একটা সুযোগ পেলেই আমাদের ডিফেন্স করতে হয়। আমাদের ঘাবড়ানোর কোনো কিছু নেই। ক্রাইসিস বৈশ্বিক, এটা মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

এ সময় তিনি দেশের মানুষের সাশ্রয়ী হওয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন, আমাদের একটু সাশ্রয়ী হতে হবে। পরিস্থিতি এমন থাকবে না, আমরা পার হয়ে যাবো।

সভায় বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি ছাড়াও এফবিসিসিআইসহ খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Loading