২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:০৫
শিরোনাম:

‘নির্বাচনে সেনাবাহিনী কোন কাজে আসে না’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী নির্বাচনে কোনো কাজে আসে না। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক মতবিনিময় সভায় এই পরামর্শ দেন সদ্য বিদায়ী এই সিইসি। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার ও সচিবদের সঙ্গে এই মতবিনিময় আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন নুরুল হুদা। তার কমিশনই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করেছে। ওই নির্বাচন নিয়ে পরাজিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যাপক সমালোচনা ছিল। সেই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে ভোটের সময় সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।
নুরুল হুদা বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে যে পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন হয়, এটা বিশ্বে বিরল। মনে হয় এ রকম কোথাও পৃথিবীতে নাই ।

শত শত হাজার হাজার লোক বন্দুক হাতে যুদ্ধাবস্থার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। আমি দায়িত্বে থাকতেও বলেছি, এখনও বলেছি যে এসবের প্রয়োজন নাই। সেনাবাহিনী মোতায়েন একেবারেই দরকার নেই। কারণ, বিগত নির্বাচনে তাদের অ্যাকটিভিটিজ আমরা দেখেছি। নির্বাচন পরিচালনার কোনো কাজে তারা আসে বলে আমার মনে হয় না। সুতরাং আমাদের এই এলিট ফোর্স সেনাবাহিনীকে নির্বাচনের সময় মাঠে নামানোর কোনো দরকার নেই।

নির্বাচনে বরাদ্দের ৭৫ শতাংশ অর্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেছনে ব্যয় হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যখন স্কুলে ছিলাম, তখন দেখতাম, একজন চৌকিদার বাঁশি মুখে আর হাতে লাঠি নিয়ে একটা কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করতেন। এখন আর্মি, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ নামে। একটা কেন্দ্রে যে পরিমাণ সশস্ত্র সদস্য থাকে, তা একটা থানার সমান।

ভোটে ইভিএম থাকলেও এই নিরাপত্তার কোনো দরকার নেই বলেও মনে করেন সিইসি। বলেন, এখন তো আমাদের সেই পরিস্থিতি নেই যে বাক্স আছে লোকজন ব্যালটে ভোট দেবে। এখন এ জন্য আছে ইভিএম। ইভিএম এমন একটা বিষয় যেখানে বাক্স ছিনতাই করা যায় না। একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারে না। নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে ইভিএম চালু করা যায় না। এর যথেষ্ট সুবিধা আছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় নুরুল হুদা ছাড়াও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করা সিইসি শামসুল হুদা, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় সিইসি বিচারপতি আব্দুর রউফ; সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, মাহবুব তালুকদার ও আবু হাফিজও উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মোহাম্মদ সাদিক, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান ও বেগম জেসমিন টুলীও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

Loading