২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৪:৫৮
শিরোনাম:

প্রস্তুতি শেষ, ক্রেতার অপেক্ষায় পশুর হাট

ঈদুল আজহাকে ঘিরে প্রতি বছরই জমে ওঠে কোরবানির পশুর হাট। রাজধানী ঢাকায় ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় প্রধান ও স্থায়ী বাজার গাবতলী পশুর হাটে। ঈদকে সামনে রেখে গাবতলী হাটের প্রস্তুতি শেষ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছে কোরবানির পশু। এখন অপেক্ষা শুধু ক্রেতার।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ঈদের ১০-১৫ দিন আগে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটগুলো সাজানোর প্রস্তুতি নেন ইজারাদাররা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীন গাবতলী স্থায়ী পশুর হাটের পাশে অস্থায়ী হাটের প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে। পশু ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রস্তুতি থাকলেও অস্থায়ী হাটে নেই কোরবানির পর্যাপ্ত পশু। আর স্থায়ী হাটে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা কম।

ব্যবসায়ীদের আশা, আগামী মঙ্গল-বুধবার নাগাদ জমে উঠবে পশুর হাট। তখন ক্রেতাদের চাহিদামতো হাটে উঠবে কোরবানির পশু। এবার বাড়তি দাম পাওয়ার আশা করছেন তারা।

শনিবার (২ জুলাই) গাবতলী স্থায়ী পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানির পশুর জন্য তৈরি করা শেড নানা রঙের ত্রিপলে সাজানো হয়েছে। ধোয়া-মোছার কাজ চলছে। আকর্ষণীয় ডিজাইনে সাজানো হয়েছে প্রধান ফটক। বসানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। তবে এখনো ব্যাংক, বিকাশ ও রকেটের বুথ তৈরি হয়নি।

হাটে কথা হয় কুষ্টিয়ার গরু ব্যবসায়ী খোরশেদ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, দুই বছর ধরে লোকসান হচ্ছে। এবার এখনো জমেনি পশুর হাট। মানুষ (ক্রেতা) আসছে, ঘুরছে, চলে যাচ্ছে। আমি ১১টি গরু এনেছি। একেকটির ওজন ৬ থেকে ১৩ মণ পর্যন্ত। দেড় লাখ টাকার নিচে কোনো গরু নেই। একেকটি গরুর পেছনে প্রতিদিন খরচ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। গত এক সপ্তাহ ধরে খরচ করে যাচ্ছি, কিন্তু ক্রেতার দেখা নেই। লস খেতে তো আর বিক্রেতারা গরু আনবে না। এবার গরু কম আসছে। আমরা যারা ১২ মাস ব্যবসা করি, তারাই আছি।

ঝিনাইদহের গরু ব্যবসায়ী লিটন বেপারি বলেন, হাটে এখন গরু-ছাগল কম। বেচাকেনা নেই। চারটি গরু এনে খরচ করেই যাচ্ছি। বিক্রি করতে পারিনি। গরু এনে রাখলেই খরচ।

কবে থেকে জমতে পারে গরুর হাট- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী মঙ্গল-বুধবার থেকে জমবে হাট। আগে আগে অনেকবার বেচাকেনা হয়েছে। আবার গত বছর গরু বেচতে না পেরে ফিরে গিয়েছিলাম। এবার মনে হচ্ছে হাট জমবে, তবে দেরিতে। তাই আশায় আছি।

তিনি জানান, ঈদের খুব বেশি আগে ঢাকার ক্রেতারা কোরবানির পশু কেনেন না। আগে খোলামেলা বাড়ি ছিল, এখন তা নেই। আগে কিনলে গরু-ছাগল রাখার জায়গা কোথায়? তাই শেষ মুহূর্তে জমে গরু-ছাগলের হাট। এখন যা হচ্ছে টুকটাক অনুষ্ঠান যেমন জন্মদিন, বিয়ে-বাড়ি আর কসাইখানার জন্য বিক্রি হচ্ছে।

আমিনবাজারের ছাগলের বেপারি মালু মিয়া বলেন, গরুর কেনাবেচা নেই বললেই চলে, ছাগল ‍দুই-চারটা বিক্রি হচ্ছে। কোরবানির চাপ এখনো পড়েনি হাটে। ক্রেতা সমাগম হলেই কোরবানির স্পেশাল ছাগল নামাব। একেকটার ওজন থাকবে ৩০ থেকে ৪৫ কেজি।

গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাটের পাশেই কোরবানির ঈদে জমে উঠে অস্থায়ী পশুর হাট। সেখানে প্রধান ফটকের সামনে ইট-বালুর ব্যবসা করেন মো. বুদ্দু মিয়া। তিনি বলেন, ইট-বালুর ব্যবসা গুটাইছি। এখন কোরবানির সময়, শেড বানাইছি, ঈদের ১০ দিন এ ব্যবসা করব। তিনি বলেন, এখনো হাট জমেনি। গরু-ছাগল আসছে, কিন্তু ক্রেতা নেই।

Loading