২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:৪৯
শিরোনাম:

নওগাঁর বদলগাছীতে সরকারী রেকর্ডভূক্ত গ্রামীণ রাস্তা অবৈধ দখলে; দুর্ভোগে গ্রামবাসীরা

মোঃ ফারুক হোসেন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

 নওগাঁর বদলগাছীতে প্রায় ২ যুগ ধরে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা অবৈধভাবে জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ করেও কোন ফল পাচ্ছেনা গ্রামবাসী।

জানা যায়, উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউপির হলুদবিহার গ্রামে দীর্ঘ দিনের পুরনো একটি সরকারি কাঁচা রাস্তা দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী। শুধু বসতবাড়ী নির্মাণ নয় রাস্তায় গাছ লাগিয়ে ও রাস্তা কেটে পুকুর খনন করে গ্রামের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার অভিযোগ ও উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। রাস্তা অবৈধভাবে দখল করায় গ্রামের বেশ কিছু পরিবারসহ সাধারণ জনগণের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত মেঠোপথটি বন্ধ হয়ে যায়। চরম দুর্ভোগে পড়েছে ২০টিরও অধিক পরিবারের মানুষ। রাস্তা দখল মুক্ত করতে জেলা প্রশাসকসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভূমি সহকারী অফিসার বরাবর ইতিপূর্বে অভিযোগও করেছিলেন ভুক্তভোগীরা।

ইতিপূর্বে ২৩শে জুন ২০১৫ইং সালে হলুদ বিহার গ্রামের বাসিন্দা রেখা বানু সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত ও রাস্তা বহাল প্রসঙ্গে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করে ছিলেন। দীর্ঘ কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও কোন প্রকার ব‍্যবস্থা না হওয়ায় গত ২৫শে মে ২০২২ইং তারিখে বদলগাছী উপজেলার হলুদ বিহার গ্রামের “দীঘির পাড় পাকা রাস্তা হতে পূর্ব দিকে হলুদ বিহার বৈরাগী পাড়া যাতায়াতের মেঠো রাস্তাটি জবরদখল এবং পুকুর খননের বিরুদ্ধে নওগাঁ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন রেখাবানু।

এরপরও কোন সুফল না পেয়ে গত ২২শে জুন ২০২২ইং তারিখে বদলগাছী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন হলুদ বিহার গ্রামের স্থানীয় আশরাফুল।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হলুদ বিহার গ্রামের সরকারি রেকর্ডিয় গ্রামীণ রাস্তা দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ, গাছ লাগানো ও পুকুর খনন করায় দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যায়। হলুদ বিহার বৈরাখী পাড়া হইতে কোলা যাতায়াতের রাস্তার কিছু অংশ ও হলুদ বিহার দীঘির পাড় হতে বৈরাগী পাড়া যাতায়াতের গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাটি স্থানীয় হলুদ বিহার গ্রামের সরকারি কর্মকর্তা এমদাদুল হক বকুল ও নুরুল হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তাটির কিছু অংশ প্রায় দুই যুগ আগে নিজেদের দখলে নেয়। এতে গ্রামের কয়েকটি পরিবারসহ জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়ে। সরকারি মেঠো রাস্তাটি দখল মুক্ত ও চলাচলের উপযোগী করতে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোন সুফল মেলেনি।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, গ্রামের নুরুল ইসলাম ও এমদাদুলহক বকুলের বাড়ির পাশ দিয়ে পুরানো সরকারি রাস্তা রয়েছে। রাস্তাটি প্রায় ১০ মিটার প্রস্থ। এলাকার জনসাধারণ সরকারি রাস্তাটি দিয়ে এক সময় চলাচল করতেন। রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চরম বিপাকে রয়েছেন স্থানীয়রা।

এ অবস্থায় হলুদ বিহার গ্রামের নুরুল ইসলাম প্রায় এক যুগ আগেও এমদাদুল হক বকুল প্রায় দুই যুগ পূর্বে অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণ, পুকুর খনন ও গাছ রোপণ করেন। এতে রাস্তাটি দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে রাস্তাটি দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয়রা। অবিলম্বে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সরকারি সড়কটি উন্মুক্ত করতে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আমরা গরীব তাই বড়লোকেরা গরীবদের সমস্যা বোঝে না। দীর্ঘ দুই যুগ পার হয়ে গেলে গ্রামের রাস্তা বের করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। কত চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে বলেছি তারা কোন ব‍্যবস্থা নেয়নি। দখলদার ব‍্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে কিছু বলে না। স্বাধীন দেশে বসবাস করেও আমরা নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। কোলা হাট বাজারের সাথে হলুদবিহার বৈরাগী পাড়ার রাস্তাটি জনগণের চলাচলের জন‍্য বের করতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন এলাকাবাসী।

কোলা গ্রামের মাহাবুব জামান বলেন, কতিপয় ব‍্যক্তি নিজের স্বার্থে জন‍্য সরকারি রাস্তার রাস্তার জমি নিজের করে ব‍্যবহার করছে। দুই গ্রামসহ জনসাধারণের চলাচল করতে ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে।

স্থানীয় আশরাফুল বলেন, রাস্তা না থাকায় আমাদের জীবনযাত্রা ব‍্যহত হচ্ছে। প্রায় ৩ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়। রাস্তার জমির উপর গাছ লাগায়ে চলাচলের পথ একেবারেই বন্ধ করেছে।

অবৈধ দখলদার এমদাদুল হক বকুল বলেন, দীর্ঘদিন আগে জায়গা না পরিমাপ করে বসতবাড়ি নির্মাণ করেছি। তবে বাড়ির পাশ দিয়ে রাস্তা ছিল। সেখান দিয়ে লোকজন চলাচল করত। কিন্তু প্রতিবেশী আব্দুল বারিক বসতবাড়ি নির্মাণ করায় রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে পরিমাপ করে সরকারি রাস্তার জায়গা পেলে আমি ছেড়ে দেব।

এ ব‍্যপারে উপজেলা সহকারি ভূমি কমিশনার বলেন, হলুদ বিহার গ্রামবাসীর পক্ষে রাস্তার ব‍্যপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Loading