৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:০৯
শিরোনাম:

হাজিরা দিতে এসে আদালত চত্বরে বিচারপ্রার্থীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

জাকারিয়া জোসেফ ও মহসীন কবির: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের গলাখাল গ্রামে বসতভিটার জায়গা নিয়ে দু’পক্ষের মামলা মোকদ্দমার জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম মো. খোকন মিয়া (৫৫)। তিনি গলাখাল গ্রামের হাজী ফটিক মিয়ার ছেলে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) দুপুর দেড়টায় আদালত এলাকার সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে তাৎক্ষণিক আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীরা।

আটককৃত ও মামলার আসামিরা হলেন, গলাখাল গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে ফয়েজ আহমদ, আফরোজ মিয়ার ছেলে সাজিদ মিয়া ও আফরোজ মিয়ার সেবুল মিয়া। ঘটনায় জড়িত সাহান নামের অপর এক যুবকে পুলিশ পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গলাখাল গ্রামের নিহত খোকন মিয়ার সঙ্গে খুনের ঘটনায় জড়িত চার ব্যক্তির জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিরো। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছিরো। বৃহস্পতিবার নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজিরা দিতে আসলে দুপুর দেড়টায় আইনজীবী সমিতির সামনে খোকন মিয়াকে একা পেয়ে ফয়েজ, সাজিদ, সাহান ও সেবুল উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করতে থাকে।

বিষয়টি দেখে উপস্থিত জনতা, আইনজীবী ও তাদের সহকারীরা এগিয়ে এসে ফয়েজ, সাজিদ ও সেবুলকে ধরে আইনজীবী সমিতিতে আটকে রাখেন। সাহান নামের অপর একজন পালানোর সময় জনতার হাতে আটক হয়। তাকে আদালত এলাকায় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যদের জিম্মায় দিলে সেখান থেকে পালিয়ে যায় সে। আটক তিনজনকে চাকুসহ পুলিশে সোপর্দ করেছেন আইনজীবীরা।

এদিকে, ছুরিকাঘাতে আহত খোকন মিয়াকে আইনজীবী ও তাদের সহকারীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে বেলা ২ টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলাম।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবু সাঈদ সাংবাদিকদের বলেন, আইনজীবীদের সহযোগিতায় যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার কারণ জানা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় কর্তব্যরত পুলিশ কর্তৃক দায়িত্ব পালনে অবহেলার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Loading