২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:৪২
শিরোনাম:

প্রধানমন্ত্রীর চায়ের দাওয়াতকে ‘সন্দেহজনক’ বললেন রিজভী

বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, হঠাৎ করে বিএনপিকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরম সুরে কথা বলছেন, চায়ের দাওয়াত দিচ্ছেন, এসব স্বাভাবিক বিষয় নয়। এর ভেতর নতুন ষড়যন্ত্র রয়েছে। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

কার্যালয় ঘেরাও করতে এলে বিএনপিকে চা খাওয়াব-প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘আপনার চায়ের দাওয়াত, সেই চায়ের মধ্যে কী থাকবে, জনগণের মধ্যে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’

‘সেই চায়ের দাওয়াতের মধ্যে মানুষের প্রশ্ন যে বিরোধী দলকে ডেকে তিনি কী খাওয়াবেন? এর মধ্যে কী দেবেন? ধুতুরার ফুল থাকবে নাকি হ্যামলকের রস থাকবে- মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে।’

‘শান্তিপূর্ণভাবে ঘেরাও কর্মসূচি করলে চায়ের দাওয়াত দেব’ প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘হঠাৎ আপনার গলার সুর এত নরম হলো কেন? এটাতো অদ্ভুত ব্যাপার। আপনার গলার সুর যখন ক্ষীণ হয় তখন বুঝতে হয় বিরোধীদলের ওপর মনে হয় আরো কিছু ভয়ংকর নির্যাতন নেমে আসছে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিববলেন, ‘আপনি এর আগেও বলেছেন বিএনপিকে, আপনারা মামলার কাগজগুলো পাঠান। তখন আমরা দেখেছি আরো ব্যাপকভাবে মামলা দিয়েছেন। বিএনপির যেই নেতা মারা গেছেন সেই লাশের নামে, যিনি হজ করতে গেছেন তার নামে, যিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তার নামে।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে করে রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ‘আপনি লুটপাট করছেন। আপনার রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি জনগণের টাকা। আপনার কোনো মায়া-মমতা নেই। আপনার সাধারণ সম্পাদককে দিয়ে বলাচ্ছেন যে দেশে কোনো সংকট নেই।’

রিজভী বলেন, ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার কী- এটা জানার জন্য দেশের জনগণের কোনো ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি নেওয়ার দরকার নেই, কোনো ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার দরকার নেই। ওবায়দুল কাদের-শেখ হাসিনারা যে দৃষ্টান্ত দিয়েছেন এই দৃষ্টান্তই হচ্ছে বিরাট শিক্ষা।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনি বলে দেন। ’৯৫-’৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের জন্য আমরা আওয়ামী লীগ যা করেছি। এ দৃষ্টান্তের আমরা আগুন লাগাবো না মানুষ মারবো না কিন্তু আন্দোলন করে কিভাবে দাবি আদায় করতে হয় গণতন্ত্রের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে জনগণের স্বাধীনতার পক্ষে সেটা আমরা প্রতিষ্ঠা করব।

রিজভী বলেন, ‘কাদের সাহেবরা প্রায়ই বলে থাকেন এটা সংবিধানে নেই। ’৯৫-৯৬ সালে এটা সংবিধানে আসলো কি করে। এটার দৃষ্টান্ত তো আপনারাই দেখিয়েছেন।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে আমি বলব, তিনি বলছেন সংকট নেই। কিন্তু সংকট হলে এর যে পরিণতি হবে; প্রধানমন্ত্রী আপনাকে বলি, আপনার সাধারণ সম্পাদকরা তখন কিন্তু আপনার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেবে। সেই শিক্ষাটাও এর আগে আমরা পেয়েছি। আপনি কোথা থেকে চাঁদা নিয়েছেন সেটা ওবায়দুল কাদের সাহেব, শেখ সেলিম সাহেব সব বলে দিয়েছেন গোয়েন্দাদের কাছে।’

 

Loading