২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১১:৩৩
শিরোনাম:

‘এখানে বসেই ইভিএমে ৩০টি ভূল ধরিয়ে দিবো’

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, এখানে বসেই ইভিএমের ৩০ টি ভূল ধরিয়ে দিবো।ইভিএমে ভুল ধরিয়ে দিলে ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা প্রসঙ্গে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, কমিশনের পদে থেকে এই ধরনের বক্তব্য দেওয়া ঠিক নয়। বুধবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

তিনি বলেন, আগের সিইসির মতো আপনাকেও আমি ক’দিন যাবত দেখছি, আপনি কথাবার্তায় ভাসছেন,বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে নির্বাচন নষ্ট হবে, গণতন্ত্র নষ্ট হবে, এই ধরনের কিছু কথা শুনতে পাচ্ছি।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা বলবো, এইখানে বিএনপি কিছু না, আওয়ামী লীগও কিছু না, এখানে সবকিছু হচ্ছে জনগণ এবং দেশের ভোটার। যদি ৬৫-৭০ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে যায় এবং ভোট দেয়, তাহলে আপনার চাইতে চমৎকার নির্বাচন কমিশন আর হতে পারে না। সেজন্য নির্বিবাধে ভোটারদের ভোটে অংশগ্রহণ প্রয়োজন। যেটা যথার্থ বলেছেন, মানুষের উৎসাহ কমে গেছে। সেটা আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে, ভোট যেন দেয় তা নিশ্চিত করতে হবে, ভোটাররা উৎসাহ পায় সে ব্যবস্থাও করতে হবে। বাধা অনেক আছে, প্রতিবন্ধকতা অনেক আছে। কিন্তু ঘোরতর কঠিন কোনো কাজ মোটেই নয়।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন যাচাই করার জন্য ইসির আমন্ত্রণে সাড়া না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সঙ্গে আমাদের পরিচয়ও হয়নি, আলোচনাও হয়নি। আপনাদের বাড়িতে আসলাম, কন্যা দেখলাম, গভীর আলোচনা হলো, এটা আমাদের কাছে ঠিক সুন্দর মনে হয়নি। তাই আমরা ওখানে (ইভিএম নিয়ে এর আগের সংলাপে) অংশগ্রহণ করিনি।

তিনি বলেন, গত নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন সমস্ত দেশকে ডুবিয়েছে। তার আগের জনও তাই করেছেন। তার আগের জনও কম বেশি তাই করেছেন। আমার দেখা মতে, আবু হেনার মতো শক্তিশালী মেরুদণ্ডওয়ালা নির্বাচন কমিশনার দ্বিতীয় কেউ হননি।

নীতির সঙ্গে কখনো বিরোধী হলে সিইসিকে পদত্যাগ করার পরামর্শও দেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, এতে আপনি মাথার মনি হয়ে থাকবেন। দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে পৌরুষের লক্ষণ, মানুষের লক্ষণ। এছাড়া দলগুলোর জন্য যত দরজা খোলা রাখবেন তত মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন। পানি ছাড়া যেমন মাছ বাঁচে না, তেমনি রাজনৈতিক দল ছাড়া ইসির কোনো অস্তিত্ব নেই। কোনো ভুলের জন্য ছাগলের খুঁটি ধরে থাকবেন না। ভুল বুঝতে পারলে স্বীকার করবেন, দেখবেন আপনার মর্যাদা বাড়ছে, ক্ষমতা বাড়ছে, আল্লাহও খুশি হচ্ছেন। আল্লাহ খুশি না হলে আপনি সম্মান পাবেন না।

কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, অনেকে বলেন তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচন করবো না। নির্বাচনের সময় সরকার কে? আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি বলবো তফসিল ঘোষণা করার পর সরকার কে? যিনি প্রধানমন্ত্রী তিনি প্রধানমন্ত্রী, যিনি রাষ্ট্রপতি তিনি রাষ্ট্রপতি। কিন্তু আমি মনে করি নির্বাচন কমিশনই রাষ্ট্রপতি, নির্বাচন কমিশনই প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আপনি সেই ক্ষমতার ব্যবহার করতে পারবেন কি পারবেন না, সেটা মেরুদণ্ডের ব্যাপার। প্রধানমন্ত্রী তার গেটের বাইরে বের হবেন কি হবেন না, সেটাও ইসিকে জিজ্ঞেস করতে হবে।

সংলাপে অন্যদের মধ্যে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Loading