নাটোরে কলেজছাত্রকে বিয়ে করে ভাইরাল হওয়া খুবজিপুর মোজাম্মেল হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক খায়রুন নাহারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার ভোররাতে নাটোর শহরের বলারীপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় খায়রুন নাহারের কলেজছাত্র স্বামী মামুনকে আটক করেছে পুলিশ।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!মামুন-নাহার দম্পতি নাটোর শহরের বলারাপাড়ার হাজী নান্নু মোল্লা ম্যানশনের চারতলায় ভাড়া থাকতেন। নিহত খায়রুন নাহার উপজেলার চাঁচকৈড় পৌর এলাকার মো. খয়ের উদ্দিনের মেয়ে। মামুন হোসেন একই উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাটপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে ও নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
মোল্লা ম্যানশন ভবনের বাসিন্দা ও এলাকাবাসী জানায়, রোববার ভোরে স্বামী মামুন ভবনের অন্য বাসিন্দাদের জানান- তার স্ত্রী খায়রুন নাহার শেষ রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। লোকজন তার বাসায় গিয়ে খায়রুন নাহারের মরদেহ মেঝেতে দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ তাদের। এরপর তারা মামুনকে বাসায় আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।
গত বছর ১২ ডিসেম্বর ছয় মাসের প্রেমের পর এক ছেলের জননী খায়রুন নাহার মামুনকে গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের ৬ মাস পর গত জুলাই মাসে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে বেশ আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাধারণ মানুষ ছাত্রকে শিক্ষিকার বিয়ের নিয়ে হাজারো মন্তব্য করে। তখন বর ছাত্র মামুন জোরালোভাবে বলেন, ভালোবাসার কোনো বয়স নেই। তার এ বক্তব্য সারাদেশে ভাইরাল হয়। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত একসঙ্গে থাকার অঙ্গীকার করা আলোচিত এই ছাত্র-শিক্ষিকা দম্পতির বিয়ের মাত্র আট মাসের মাথায় সম্পর্কের পরিসমাপ্তি ঘটলো।
নাটোরের এসপি লিটন কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রোববার সকালে ভাড়া বাসা থেকে সহকারী অধ্যাপক খায়রুন নাহারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাদের নিহতের স্বামী মামুন হোসেনকে আটক করা হয়েছে।
নাটোর থানার ওসি মো. নাছিম আহমেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অন্য বাহিনীর সদস্যরাও তদন্ত করবে। ময়নাতদন্ত হলে এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এর আগে সহকারী অধ্যাপক খায়রুন নাহার জানিয়েছিলেন, আগের স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। দিনের পর দিন তিনি ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে থাকতেন। এর মধ্যেই ফেসবুকে তার সঙ্গে কলেজছাত্র মামুনের পরিচয় হয়। মামুনের সঙ্গে কথা বলে তিনি শান্তি অনুভব করেন। পরে গত বছরের ১২ ডিসেম্বরে কাউকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করায় ছেলের পরিবার মেনে নিলেও মেয়ের পরিবার থেকে বিয়ে মেনে নেয়নি। তাই নাটোর শহরে তারা ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
![]()