নড়াইলে মিলাদের ‘তবারক’ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের চার নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!আহতরা হলেন আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, নড়াইল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রিয়াজ আহম্মেদ সজল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী তৌহিদুর রহমান সাগর, ফারুক হোসেন ও নাহিদুজ্জমান। তাদের বাড়ি নড়াইল সদরের ভওয়াখালী ও চরেরঘাট এলাকায়। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং উপদপ্তর সম্পাদক বোরহান উদ্দিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক আহম্মেদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর মিলাদে কয়েকটি খাবার প্যাকেট জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক বোরহান উদ্দিনের কাছে ছিল। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা বোরহান উদ্দিনের কাছে খাবার চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা বোরহান উদ্দিনকে মারধর করেন।
খবর পেয়ে বোরহান উদ্দিনের পক্ষের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ অফিসের সিঁড়ির স্টিলের রেলিং ভেঙে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের মারধর করেন। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগের চার নেতাকর্মী আহত হন। এর মধ্যে নড়াইল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রিয়াজ আহম্মেদ সজলকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে সিদ্দিক আহম্মেদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় নড়াইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি তারিকুজ্জামান উজ্জ্বলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিদ্দিক আহম্মেদের স্ত্রী নড়াইল পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোহম্মদ আলী, আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম নবী, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিকী, নড়াইল পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মলয় কুণ্ড, নড়াইল স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম পলাশ, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নাঈম ভুঁইয়াসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের অতিথিরা চলে যাওয়ার পরে দুপক্ষের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে নড়াইল পৌর মেয়র আনজুমান আরা বলেন, ‘আমি দুপক্ষকেই থামানোর করার চেষ্টা করেছি।’
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। এ নিয়ে কোনো মামলা বা কাউকে আটক করা হয়নি।
![]()