২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৩:১৫
শিরোনাম:

মৃত ঘোষণার পরও চোখ খুলল শিশু!

চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করার পর শেষকৃত্যে জেগে উঠে আবার মারা গেছে তিন বছরের শিশু ক্যামিলা রোকসানা মার্টিনেজ মেন্ডোজ। ঘটনাটি মেক্সিকোর ভিলা দে রামোসে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মেক্সিকান সংবাদমাধ্যম এল ইউনিভার্সাল’র প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৭ আগস্ট পেটে ব্যথা, বমি ও জ্বর হলে ক্যামিলার মা মেরি জেন মেন্ডোজা তাকে ভিলা ডি রামোসে স্যালিনাস ডি হিদালগো বেসিক কমিউনিটি হাসপাতালে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক জানান, ক্যামিলার ডিহাইড্রেশন হয়েছে। পরামর্শ দেন তাকে সান লুইস পোতোসি রাজ্যের হাসপাতালে ভর্তি করতে।

স্যালিনাস হাসপাতালের চিকিৎসকরা ক্যামিলার জ্বর কমাতে তার শরীরের ওপর একটি ঠাণ্ডা তোয়ালে রাখেন। অন্যদিকে, অক্সিজেন লেবেল চেক করার জন্য তার আঙ্গুলে একটি পালস অক্সিমিটারও রেখেছিলেন। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দেয়।

আরেক চিকিৎসককে দেখালে ক্যামিলাকে ফল ও পানি খাওয়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধও লিখে দিয়েছিলেন। ওষুধ খাওয়ার পরও ক্যামিলা বমি করতে থাকে। অন্য চিকিৎসকের কাছে নিলে ক্যামিলাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ক্যামিলাকে রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে স্যালিনাসে আবার ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ করার জন্য চেষ্টা করেন।

ক্যামিলার মা মেরি বলেন, ‘চিকিৎসক ক্যামিলাকে ইন্ট্রাভেনাস থেরাপি দিতে চেয়েছিলেন। তারা তাকে অক্সিজেন দিতে অনেক সময় নিয়েছিলেন। কারণ ক্যামিলার শিরা পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে একজন নার্স এটি দিতে পেরেছিলেন।’

অভিযোগ উঠেছে, অসুস্থ মেয়ের কাছ থেকে মেরিকে পৃথক তালাবদ্ধ ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। সেই ঘর থেকে মেরি বের হতে পারলেও মেয়েকে দেখতে পারেননি। এরপর চিকিৎসক ডিহাইড্রেশনের কারণে ক্যামিলাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরের দিন বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শিশুর শেষকৃত্যের আয়োজন করেন পরিবারটি। এ সময় কফিনের মধ্যে ক্যামিলাকে নড়াচড়া করতে দেখেন মেরি। এ কথা বললে ঘনিষ্ঠজনরা বলেন, মেরির মতিভ্রম হয়েছে। এ কারণে তিনি ভুল দেখছেন। মেরিকে কফিন খুলতেও বাধা দেওয়া হয়।

এমন সময় ক্যামিলার দাদি কাছ থেকে দেখার জন্য কফিনের কাছে ছুটে যান। তখন তিনি ক্যামিলার চোখকে নড়াচড়া করতে দেখেছিলেন এবং তিনি টের পান ক্যামিলা তখনো জীবিত।

দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে স্যালিনাস হাসপাতালে নিলেও ক্যামিলাকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন চিকিৎসকরা। সেখানে তাকে আবারও মৃত ঘোষণা করা হয়। এবার তারা মৃত্যুর কারণ হিসেবে লেখেন ‘সেরিব্রাল এডিমা’ ও ‘মেটাবলিক ফেইলর’। যদিও আগেরবার তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল ডিহাইড্রেশন লিখে।

মেরি বলেন, ‘আমি চাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আমার কোনো ক্ষোভ নেই। আমি শুধু ডাক্তার, নার্স ও পরিচালকদের পরিবর্তন করার অনুরোধ করছি, যাতে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর না হয়।’

মামলাটি সান লুইস পোতোসি রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল জোসে লুইস রুইজ তদন্ত করছেন। তিনি জানান, ময়নাতদন্ত চলছে।উল্লেখ্য, ক্যামিলাকে এই সপ্তাহে কিন্ডারগার্টেনে পাঠানোর পরিকল্পনা করছিলেন পরিবারটি।

 

Loading