৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:০৯
শিরোনাম:

জাতিসংঘের উদ্বেগের পরও সরকার গুম-খুন চালিয়ে যাচ্ছে: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের প্রায় সব গণতান্ত্রিক দল সরকারের রোষানলে রয়েছে। আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মীকে সরকার বিনা বিচারে গ্রেপ্তার করেছে। দেশে কোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। মিটিং মিছিল করার কোনো অধিকার নেই। গণমাধ্যমকে একটা সেলফ সেন্সরশিপে বাধ্য করা হয়েছে।আজ শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার দেশের মানুষের কথা কর্ণপাত করছে না। এমনকি জাতিসংঘের মতো বিশ্বের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও তারা তোয়াক্কা করছে না। তারা হত্যা, গুম-খুন চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ভোলায় গুলি করে দুইজনকে হত্যা, ঢাকা ও কুমিল্লায় পুলিশের হেফাজতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সারাদেশে জ্বালানি তেল ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির চলমান আন্দোলনে হামলা করা হয়েছে। এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।

জাতিসংঘের পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমেদের নাম অন্তর্ভুক্তি সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘অপরিণামদর্শী ফ্যাসিবাদী’বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘পুলিশের মহাপরিদর্শককে যুক্তরাষ্ট্র শর্ত সাপেক্ষে ভিসা দেওয়া হয়েছে। শর্তসাপেক্ষে ভিসা প্রদান বাংলাদেশের জন্য অবমাননাকর। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।’

গত ২২ আগস্ট থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিএনপি চলমান কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন পর্যন্ত ৫০টির অধিক স্থানে হামলা করা হয়েছে। হামলায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রায় ২০টার মতো জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। মামলা করা হয়েছে ১৫টার ওপরে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গি, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, নোয়াখালীর সেনবাগ, ফেনীর ছাগলনাইয়া-ফুলগাজী, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর, ময়মনসিংহের ফুলপুর, ত্রিশাল, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে, খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি, খুলনার দৌলতপুর, টাঙ্গাইলে ঘাটাইল, সখিপুর, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া, নেত্রকোনার কেন্দুয়া, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও বাশখালী, ঝালকাঠি, যশোর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, নরসিংদীর রায়পুরা, রাজশাহীর কাশিডাঙ্গাসহ ৫০টির অধিক জায়গায় হামলা হয়েছে। হামলা করা হয়েছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত তরিকুল ইসলামের যশোরের বাড়িতে, জেলার সাধারণ সম্পাদক সাবেরুল ইসলাম সাবু, মিজানুর রহমান, ফেনীতে শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির বাড়িতে হামলা, টাঙ্গাইলের সখিপুরে আহমেদ আজম খানের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার পরও হাজার হাজার নেতাকর্মী মাঠে অবস্থান করছে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার বাংলাদেশে অবস্থানকালে পরিষ্কার বক্তব্য দিয়ে গেছেন। প্রেস কনফারেন্স করেছেন উনি পরিষ্কারভাবে বলে গেছেন বাংলাদেশে কোথায় অবস্থান করছে। উনি লাস্টে যেটা বলেছেন, এই অবস্থা থেকে মুক্ত হতে গেলে একটা স্বচ্ছ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার প্রয়োজনীয়তা আছে। উনি তদন্তের প্রস্তাব দিয়ে গেছেন এবং প্রয়োজনে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ এই তদন্তে সহায়তা করবে-এটাও বলে গেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান উপস্থিত ছিলেন।

Loading