২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৭:০১
শিরোনাম:

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার বিচার শুরু

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে।এর আগে ১৩ জুন ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সেই চার্জশিট আমলে নিয়ে রোববার দুপুরে বিচারকাজ শুরুর আদেশ দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পুলিশের দেয়া চার্জশিট আমলে নিয়ে বিচারকাজ শুরুর আদেশ দিয়েছেন। তবে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণের শুনানিটি আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। এ মামলায় মোট সাক্ষী ৩৮ জন।

মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান ছিলেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তার বড় ভূমিকা ছিল। ঘটনার পর ১৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

সাড়ে আট মাস তদন্তের পর ওই দিন দুপুরে ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট আদালতের ডকেট শাখায় জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত গাজী সালাউদ্দিন।

২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ায় লাম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুর্বৃত্তরা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর তার ভাই হাবিবুল্লাহ মামলা করেন। তাতে অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি হামলাকারী কয়েকজনকে চেনার কথা সাংবাদিকদের জানালেও মামলায় আসামির তালিকায় কারও নাম দেয়া হয়নি।

মিয়ানমারে নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১১ লাখ রোহিঙ্গার অধিকাংশই রয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার শরণার্থী শিবিরে। কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে সম্প্রতি নোয়াখালীর ভাসানচরে সরিয়ে নেয়া হয়।

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমার চার বছর আগে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি করলেও এখনও প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি।

‘রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে পরিচিত মুহিবুল্লাহ ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে আলোচনায় এসেছিলেন। জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থায় রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্বও করেছিলেন তিনি।

মুহিবুল্লাহকে হত্যার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘ, ইউএনএইচসিআর, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

 

Loading