২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১১:৩৬
শিরোনাম:

বেগমগঞ্জে ককটেল ফাটিয়ে বসত ঘরে ভাঙচুর

জমি সংক্রান্ত বিরোধে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বসত ঘরসহ তিনটি ঘর ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ও গত রোববার রাতে দুই দফায় উপজেলার রাজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনে মোহাম্মদ আলী মিজি বাড়িতে আবদুল মালেকের বসত ঘরে একই বাড়ির প্রতিপক্ষ বাদশা মিয়া, তার দুই ছেলে নুরুল আমিন ও সাগরের নেতৃত্বে অন্তত ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী দুই দফায় এ হামলা চালায়।

ভুক্তভোগী আবদুল মালেকের ছেলে বেলাল হোসেন জানান, বাড়িতে পুরুষরা তেমন থাকেন না। তিনিসহ তারা দুই ভাই ঢাকা ব্যবসা করেন। অপর দুই ভাই বিদেশ থাকেন। বাড়িতে তার শতবর্ষী বাবা আবদুল মালেক, সত্তোরর্ধ্ব মা পিয়ারা বেগম ও দুই ভাবী থাকেন।

তাদের বাড়ির প্রতিপক্ষ বাদশা মিয়া, তার ছেলে নুরুল আমিন ও সাগর চট্টগ্রাম থাকেন। তাদের পরিবারের নারীরা থাকেন বাড়িতে। বিগত দিনে প্রায় সময় বাড়ির সীমানা ঝটিলতা নিয়ে প্রতিপক্ষ পুরুষরা বাড়িতে আসলেই ঝগড়া হয়। এ নিয়ে স্থানীয় মেম্বারসহ একাধিকবার বৈঠক হয়।

কিন্তু বৈঠকে ভালো কোনো সিদ্বান্ত হয়নি। এরই মধ্যে গত রোববার তাদের অনুপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ বাদশা মিয়ারা তার মা পিয়ারা বেগম ওপর হামলা করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা বাড়ির বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

পরে সন্ত্রাসীরা তার মায়ের গলায় ছুরি ধরে এবং বৃদ্ধ বাবা ও ভাবীদের এক ঘরে আটক রেখে তাদের বসত ঘর, রান্না ঘর ও কবুতর রাখার ঘর ভেঙে তছনছ করে দেয়।

খবর পেয়ে বেলাল উদ্দিন সোমবার ভোরে বাড়িতে এসে বেগমগঞ্জ থানায় অবহিত করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অথচ বাড়ির অদুরেই রাজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি।

বেলাল আরও বলেন, পুলিশকে জানানোর পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা পুনরায় হামলা চালায়। এ সময় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা তাদের ঘর ভাঙচুর করে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং ৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুল আলমের সঙ্গে কথা হলে বসত ঘর ভাঙচুরের কথা স্বীকার করে বলেন, সালিশী বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেলালরা ঘর ভেঙে না নেয়ায় তার জায়গা দখল করতে তিনি এমন করেছেন।

যদিও সালিশী বৈঠকের সদস্য মেম্বার আবুল জানান, জায়গা দখলের জন্য নুরুল আলমদের বলা হয়নি। সিদ্ধান্ত হয়েছে, আদালতের মাধ্যমে জায়গা বুঝে নেয়ার। কিন্তু এখন বাদশা মিয়ার ছেলেরা বেলালদের ঘর ভেঙে দেয়। যা দুঃখ জনক।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গেছে। তবে কাউকে আটক করতে পারেনি। ভাঙচুরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Loading