৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৫৩
শিরোনাম:

খাদ্যের অভাবে নয়, দেশে একনায়কতন্ত্র চললে দুর্ভিক্ষ হয়: জি এম কাদের

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেছেন, অব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী জরিপ করা হলে অব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের কাছাকাছি কোন দেশ নেই।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই, গণতন্ত্রের নামে একনায়কতন্ত্র চলছে। খাদ্যের অভাবে কখনো দুর্ভিক্ষ হয় না। দেশ পরাধীন হলে অথবা একনায়কতন্ত্র চলে যেদেশে সেদেশে দুর্ভিক্ষ হবেই। দেশে গণতন্ত্র না থাকলে বৈষম্য সৃষ্টি হয়। বৈষম্য থেকেই দেখা দেয় দূর্ভিক্ষ।

জাতিসংঘের খাদ্য বিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃতি দিয় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বের ৪৫টি দেশে খাদ্য সংকট হবে। এর মধ্যে এশিয়ার নয়টি আর দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নাম আছে।

আজ (২৩অক্টোবর) জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে উপজেলা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

এসময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে জ্বালানি তেল কিনতে পারছে না দেশ। একারণে, বিদ্যুতের অভাবে কৃষকরা সেচ দিতে পারবে না। আবার বিশ্বব্যাপী সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় উচ্চমূল্যে সার কিনতে পারবে না কৃষকরা।

অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতি বছরই খাদ্যশষ্য নষ্ট হয় আমাদের। এছাড়া সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও বলা হচ্ছে, খাদ্য সংকট হবে। দিন দিন ডলারের দাম বেড়ে যাচ্ছে, অধিক দামে খাবারও কিনতে পারবে না বাংলাদেশ। তাই দুর্ভিক্ষ ঠেকাতেও দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেই সুশাসন এবং সামাজিক ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে।

তিনি আরো বলেন, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রতিদিন নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে গেছে। সংসার চালাতে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। তাই যারা সরকারি ও বেসরকারি চাকরি করে তাদের কমপক্ষে ৩০ ভাগ মহার্ঘভাতা দিতে হবে। দরিদ্র আর মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও অসহায় মানুষের জন্য ন্যায্যমূল্যে রেশনকার্ড এর ব্যবস্থা করতে হবে।

সভাপতির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, দিন দিন রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। আবার আগামী বছর থেকে সুদ ও আসলসহ ২২ বিলিয়ন ডলার শোধ করতে হবে। তখন মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে দেশ। যখন মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যায় করা হচ্ছে, তখন শুধু সুইস ব্যাংকেই পাচার হয়েছে ৪ লাখ কোটি টাকা। মেগা প্রকল্পের নামে একটি শ্রেণীর দেশে টাকা রাখার জায়গা নেই। তারা বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করছে। আর বেশির ভাগ মানুষই খাবার কিনতে পারে না, অর্থের অভাবে শিশুর চিকিৎসা হচ্ছে না। দেশের মানুষের কষ্ট যেনো কেউ বোঝে না। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে দেশের অর্থনীতি দূর্বল হয়নি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগেই দেশের রিজার্ভ কমে গেছে। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের অর্থনীতিতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

Loading