৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:৩৯

ভয়ংকর মাইন্ড কন্ট্রোল ড্রাগ ‘ডেভিলস ব্রেথ’-এর মাধ‍্যমে ছিনতাই

বরগুনা শহরে কয়েকদিন ধরে অভিনব কায়দায় ফাঁদ পেতে ছিনতাই শুরু হয়েছে। এরা কখনো ভদ্র বেসে আবার কখনো রিক্সা ওয়ালা সেজে ছিনতাই করে থাকে।

শনিবার দুপুরে সম্ভ্রান্ত এক ব্যবসায়ী পরিবারের একজন গৃহবধূককে ভয়ংকর মাইন্ড কন্ট্রোল ড্রাগ ‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা ‘শয়তানের শ্বাস’ বা স্কোপোলামিন আক্রান্ত করে ছিনতাই করেছে।

জানা যায়, বরগুনা শহরে ভদ্র বেসে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে ধনী শ্রেণির নারীদের টার্গেট করে মেডিসিনের মাধ্যমে ছিনতাই করে। ভয়ংকর মাইন্ড কন্ট্রোল ড্রাগ ‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা ‘শয়তানের শ্বাস’ বা স্কোপোলামিন নাকে বা মুখের কাছে নিলেই তারা স্বেচ্ছায় সব কিছু ছিনতাই কারীদের হাতে তুলে দেয়।

জানা যায়, ছিনতাইকারী, পকেটমার ও মলম পার্টির পর বাজারে নতুন এসেছে ‘ডেভিলস ব্রেথ’ (Devil’s Breath) বা ‘শয়তানের শ্বাস’ নামে পরিচিত স্কোপোলামিন নামক ড্রাগ যা ব্যবহার করে যাত্রী ও পথচারীদেরকে মোহগ্রস্ত করে সর্বস্ব লুটে নেয় এক চতুর পার্টি।

কিভাবে কাজ করে ‘ডেভিল ব্রেথ’ পার্টি?

স্কোপোলামিন মাদক ব্যবহারের কারণে ছিনতাইকারীদের মত ছুরি, চাকু বহন করা লাগে না এই পার্টির সদস্যদের। এমন কি পকেটমারদের মত ধরা পড়া বা গণপিটুনি খাওয়ার রিস্কও থাকে না তাদের।

স্কোপোলামিনের ব্যবহার তাদেরকে এমন সব ঝুট-ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়ে শহরের সব চেয়ে সফল হাইজ্যাকারে পরিণত করেছে। প্রথমে এই পার্টির এক সদস্য তার টার্গেটেড লোকের কাছে যেয়ে একটি কাগজ বা মোবাইলের মেসেজ দেখিয়ে বলবে আন্টি, ভাই, আপু এই ঠিকানাটা কোথায়? কিংবা কোন এক রিকশাওয়ালা সদস্য একটি প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে বলবে ‘বাবা, এই প্রেসক্রিপশনের ওষুধের নামটা কী? কোথায় পাওয়া যাবে?’

মানবিক বোধ থেকে তাদের সাহায্য করতে গেলেন মানেই তাদের ফাঁদে পা দিলেন। এরা ইচ্ছা করেই কাগজে লেখা গুলো ছোট করে লিখে থাকে। যাতে তাদের লেখা কাগজটা বা মোবাইল নাক ও মুখের কাছাকাছি নিয়ে পড়তে বাধ্য হয়। তাদের দেওয়া কাগজ, ফোন বা অন্যকিছু আপনি নাক, চোখ মুখের কাছাকাছি ধরার মাধ্যমে নিজে নিজেই স্কোপোলামিন গ্রহণ করে ফেলবেন।

এরপর আপনি হয়ত ঠিকানা খুঁজতে যাবেন বা ওষুধের নাম, কিন্তু ততোক্ষণে সব শেষ। আপনার মাথা ঝিমঝিম লাগবে এবং আপনি বুঝবেন না আপনি কী করছেন। আপনি নিজ থেকেই আপনার কাছে থাকা টাকা পয়সা, গহনা, মোবাইলসহ সব কিছু দিয়ে দিবেন আপনার সামনে থাকা ভয়ংকর ‘ডেভিলস ব্রেথ’ পার্টির সেই কুচক্রী সদস্যের হাতে। এই পার্টি প্রধানত জুয়েলারি ও ব্যাংকের আশেপাশে ঘোরাফেরা করে এবং অবস্থা সম্পন্ন পথচারী নারীদের টার্গেট করে।

বরগুনা শহর ও চরকলোনী এলাকায় এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। সিসি ক্যামেরায় দুইজন যুবককে দেখতে পেলেও তাদের সনাক্ত করা যায়নি।

এ ব্যাপারে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার সোহরাব উদ্দিন খান বলেন, ডেভিলস ব্রেথ বা স্কোপোলামিন এক ধরনের কেমিক্যাল। এই কেমিক্যাল নাকে মুখে লাগলে কিছু সময়ের জন্য নিজের জ্ঞান বুদ্ধি লোপ পায়। এই কেমিক্যাল কোন কাজে ব্যবহৃত হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের দেশে এ কেমিক্যাল ব্যবহার হয় না। চোরাই পথে আমাদের দেশে আসে। এক শ্রেণির অসাধু লোকজন ছিনতাই কাজে ব্যবহার করে থাকে।

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী আহম্মেদ বলেন, বরগুনা থানায় এ ব্যাপারে একটি মামলা হয়েছে। আমরা তদন্ত করতেছি।